নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বর্তমানে সাইবার অপরাধীদের অত্যন্ত শক্তিশালী এক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বানান বা ব্যাকরণগত ত্রুটি দেখে জালিয়াতিপূর্ণ বার্তা বা ওয়েবসাইটের পাতা চেনার যুগ ইতোমধ্যে পেরিয়ে এসেছে।
প্রযুক্তির অপব্যবহার ঘটিয়ে নিখুঁত সব বিপদজনক ফাঁদ পেতে প্রতিদিন নিজেদের সর্বস্ব হারাচ্ছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। সাধারণ সতর্কতা কিংবা খালি চোখে এই অপরাধগুলো সহজে ধরা যায় না।
অপরাধীরা খুব দ্রুত পেশাদার মানের ভুয়া অনলাইন শপ তৈরি করে সাধারণকে বিভ্রান্ত করে। সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানের দৃশ্য ব্যবহার করে কেনাকাটার ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত করলেও শেষ পর্যন্ত ক্রেতার হাতে কোনো পণ্য পৌঁছায় না।
প্রিয়জনের বিপদের কথা বলে কণ্ঠস্বর নকল করা বা ডিপফেক ভিডিও কলের সাহায্যে অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা চলছে।
সামাজিক মাধ্যম বা ডেটিং সাইটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নিখুঁত কাল্পনিক সঙ্গী সাজিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগের পর অর্থ কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করা হয়।
স্বঘোষিত অর্থনৈতিক পরামর্শদাতারা কৃত্রিম উপায়ে অনুসারী বাড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য প্ররোচিত করে। এছাড়া বিশেষ ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে সংবেদনশীল তথ্য ও পাসওয়ার্ড চুরি করা হচ্ছে।
এ ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির কবলে পড়লে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দেশের সাইবার অপরাধ দমন শাখায় কিংবা নির্দিষ্ট সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।
সচেতনতা হলো বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা। কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই ধরনের আধুনিক জালিয়াতি এড়ানো সম্ভব।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় কণ্ঠ নকলের জালিয়াতি রোধে একটি গোপন পাসওয়ার্ড বা কোড ঠিক করে রাখা উচিত।
কাউকে ভিডিও বা অডিও কলে দেখলে বা শুনলে অন্ধের মতো বিশ্বাস না করে পরিচিত নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।
কেনাকাটার আগে কোনো নতুন প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব ও বৈধতা যাচাই করা আবশ্যক। কখনো অচেনা ব্যক্তির কাছে অর্থ কিংবা সংবেদনশীল তথ্য হস্তান্তর করা যাবে না।
প্রতারকরা সবসময় তাড়াহুড়ো বা ভীতি সৃষ্টি করে যাতে ভাবার সুযোগ না থাকে। যেকোনো পদক্ষেপে সবসময় ধৈর্য ধরে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
Daily Diner Alo