নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে প্রায় দেড়শত বছর ধরে একই প্রাঙ্গণে কিংবা অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থানে পরম সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে টিকে রয়েছে একটি মসজিদ ও একটি মন্দির। স্থানীয় বাসিন্দারা ও ধর্মীয় প্রতিনিধিরা জানান, যুগের পর যুগ ধরে এই অঞ্চলে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করে আসছেন এবং এখানে কখনো কোনো ধরনের বিভেদ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান এই প্রসঙ্গে জানান যে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যুগের পর যুগ ধরে কোনো বাধা বিপত্তি ছাড়া অত্যন্ত নির্বিঘ্নে তাদের পূজা-অর্চনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকেও তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়ে থাকে।
মসজিদের সাধারণ মুসল্লি দুলাল মিয়া নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন যে, তারা অত্যন্ত দীর্ঘকাল যাবত এলাকায় এক চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহ বজায় রেখে মিলেমিশে বসবাস করছেন এবং অতীতে কোনো সমস্যা তৈরি না হওয়ার মতো ভবিষ্যতেও কোনো জটিলতা তৈরি হবে না বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
শ্রী শ্রী সাধুবাবা শম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজয় দাশ হরি উল্লেখ করেন যে, প্রতিদিন নিয়মিত আজান প্রচারের পর মুসলিম মুসল্লিরা তাদের নিজ দায়িত্বে নামাজ আদায় করেন এবং দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন পূজার সময় তারা নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারেন। তিনি আরও জানান যে, এই দীর্ঘস্থায়ী সহাবস্থান মূল মূলত পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত জানান যে, এখানে বহু বছর ধরে মসজিদ ও মন্দিরের যাবতীয় ধর্মীয় কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পাশাপাশি পরিচালিত হয়ে আসছে। আসন্ন দুর্গাপূজাও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন এবং আগামী দিনেও এই অঞ্চলের সম্প্রীতির এই সুদৃঢ় বন্ধন একইভাবে অটুট থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
Daily Diner Alo