ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চিত্রাঙ্কন কর্মশালায় এসে পুকুরের জলে ঝরল তরুণ প্রাণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2026 ইং
চিত্রাঙ্কন কর্মশালায় এসে পুকুরের জলে ঝরল তরুণ প্রাণ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি পুকুরে গোসল করতে নামার পর পানিতে ডুবে মোহাম্মদ জিসাদ নামের উনিশ বছর বয়সী এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার গোজালিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত চিংককপাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত জিসাদের পিতার নাম মিজানুর রহমান এবং তাদের পরিবার রাজধানীর ভাষানটেকের পুরোনো কচুখেত এলাকায় বসবাস করে থাকে। তবে তাদের আসল গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরভাটা গ্রামে অবস্থিত।

মূলত রাজধানী ঢাকা থেকে আসা বারোজন তরুণ সদস্যের একটি দলের অংশ ছিলেন জিসাদ, যারা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের পাওমুম থারক্লা ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের কোমলমতি শিশুদের চিত্রাঙ্কন বা ছবি আঁকা শেখানোর মহৎ উদ্দেশ্যে সেখানে ভ্রমণ করেছিলেন। এক সপ্তাহের নির্ধারিত এই চিত্রাঙ্কন কর্মশালায় অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা সবাই মিলে গত শনিবার ওই এলাকায় গিয়ে পৌঁছান।

স্থানীয় লোকজনের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় যে, নির্ধারিত ঘটনার দিন বিকেলে ঢাকার তরুণ দলটি স্থানীয় পাড়ার কার্বারি বা পাড়াপ্রধানের মালিকাধীন পুকুরে গোসল করার জন্য নামে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পানিতে ভাসমান বাঁশের ভেলা নিয়ে খেলাধুলা করছিলেন এবং অন্যেরা ফুটবল বুকে জড়িয়ে ধরে সাঁতার কাটার আনন্দে মেতেছিলেন।

সবাই যখন গোসল পর্ব শেষ করে পুকুর থেকে উঠে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন দলের কেউ জিসাদকে দেখতে না পেয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর পানিতে একটি ফুটবল ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ বাড়ে এবং তারা চারপাশ তল্লাশি করতে শুরু করেন।

এরপর দ্রুত ওই পুকুর থেকেই অচেতন অবস্থায় জিসাদকে উদ্ধার করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য লামা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ কাইছার হামিদ আজ বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, মৃত জিসাদের মরদেহ বর্তমানে লামা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিহতের পরিবারের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছানোর পর সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন সাপেক্ষে মরদেহটি তাদের পরিবারের কাছে যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য যে, লামা উপজেলা সদর এলাকা থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দূরত্বে গোজালিয়া ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের ভেতরে চিংককপাড়া পাওমুম থারক্লা ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসটি অবস্থিত।

যেহেতু ওই এলাকায় কোনো স্থায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই, তাই দুর্গম অঞ্চলের অত্যন্ত দরিদ্র ম্রো পরিবারের শিশুরা সাধারণত ওই ছাত্রাবাসে বসবাস করে এবং তারা পাশেই অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করে থাকে। মূলত রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি মিলে এই ছাত্রাবাসটি পরিচালনা করে আসছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মাইকিং করে শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা, গ্রেপ্তার দুই

মাইকিং করে শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা, গ্রেপ্তার দুই