নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার জন্য তৈরি 'ক্লিন কেয়ার' অ্যাপটি পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সাড়া ফেলতে পারছে না। এখন পর্যন্ত মূলত সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পাতার প্রচারণাকে ভর করেই এই প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারী সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অ্যাপটির কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলেই বিষয়টির আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর প্রচারণা চালাতে পারত।
নগর ভবনের অভ্যন্তরে এই অ্যাপ্লিকেশনটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাত্র একটি ছোট অফিসকক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতেই এই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
গোলাম রাব্বানী আরও বলেন যে, এতদিন তারা সম্পূর্ণ অবৈতনিকভাবে এই সেবা প্রদান করেছেন। এখন তারা চান এই উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যথাযথ সহযোগিতা দেওয়া হোক, যার অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশন তাদের কিছু আর্থিক অনুদান প্রদান করতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান এই প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান যে, এ ধরনের নতুন উদ্যোগের যদি সঠিক মাত্রায় ব্র্যান্ডিং কিংবা প্রচারণা চালানো না হয়, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে সে বিষয়ে অবগত হবে?
তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত অ্যাপটির ডাউনলোড সংখ্যা মাত্র দশ হাজারের কাছাকাছি, যা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
ড. আদিল মুহাম্মদ খান আরও পরামর্শ দেন যে, শুধু মোবাইল অ্যাপের ওপর নির্ভর না করে এর পাশাপাশি একটি সুনির্দিষ্ট হটলাইন নম্বর এবং ওয়েবসাইট চালুর মাধ্যমেও নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা প্রয়োজন।
সার্বিক এই বিষয়টির ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান জানান যে, অ্যাপটির প্রচার আরও অনেক বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে।
তিনি মনে করেন, সংবাদমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাই যদি সম্মিলিতভাবে এই সেবার প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তবে এর গ্রাহক সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিশেষ প্রচারণামূলক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়নি বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
Daily Diner Alo