ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শাহজালাল মাজারের দানে নগদ ৮৮ লাখ টাকার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
শাহজালাল মাজারের দানে নগদ ৮৮ লাখ টাকার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

সিলেটের আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহাসিক ডেগ এবং সম্প্রতি নতুনভাবে বসানো দানবাক্সগুলো খুলে গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষে মোট ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি এই সংগ্রহে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকারও যুক্ত রয়েছে।

আজ শনিবার সকালের দিকে নির্দিষ্ট সময়ে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনার কাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই গণনা কার্যক্রম শেষ হয় একই দিন সন্ধ্যার দিকে। গণনা সমাপ্তির পর মাজার চত্বরে সমবেত সাধারণ মানুষের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বমোট প্রাপ্ত অর্থের অঙ্কটি ঘোষণা করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

ঘোষণার সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, কেবল দেশীয় টাকাই নয়, এর সাথে দানবাক্স থেকে ১ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ৩ ভরি ১৩ আনা ওজনের রূপাও উদ্ধার করা হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ ১৪ পাউন্ড, ভারতীয় ৭ হাজার ৬৪৭ রুপি এবং থাইল্যান্ডের ২০ বাথ। এছাড়া সৌদি আরবের ৯৩ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার এবং কাতারের ১৭ রিয়াল পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৩৩ ইউরো এবং হংকংয়ের ১০ ডলারসহ আরও নানা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এই দানবাক্সগুলোতে জমা পড়েছিল।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ ধাপে চালানো গণনায় সর্বমোট ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তারও পূর্বে গত ১৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার গণনায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্স থেকে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই সময়ও দেশীয় মুদ্রার বাইরেও পাউন্ড, ডলার, রিয়াল, রুপি ও দিরহামের মতো বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল।

চলতি বছরের ২২ জুন প্রথম দফার গণনায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্সগুলো থেকে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়, যা ছিল মূলত মাত্র চার দিনের জমানো দান। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় গণনা চালিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সংগৃহীত এই সমস্ত অর্থ বর্তমানে জেলা প্রশাসকের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় নতুনভাবে খোলা একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হচ্ছে।

গত ১২ জুন সিলেট অঞ্চলের হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সেই সময় তিনি মাজারের সার্বিক আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনার দৃঢ় উদ্যোগের কথা ব্যক্ত করেছিলেন। তারই অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকেলে মাজারের তৎকালীন আগের দানবাক্সগুলো সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসানো হয় এবং মানুষের দানের অর্থ জমার ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।

প্রশাসনের এই পদক্ষেপ গ্রহণের পর তৎকালীন সময়ে বিষয়টি নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। একদল মানুষ প্রশাসনের এই উদ্যোগটিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। অন্যদিকে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন করে দানবাক্স স্থাপনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এসবের মাঝেই তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে সরকার পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়।

এরপর হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক পরিচালনা আরও সুদৃঢ় ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত ওই বৈঠকে একটি ১৩ সদস্যবিশিষ্ট তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

সর্বশেষ মাজারের আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে গঠিত এই কমিটির গত ২৩ সেপ্টেম্বরের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মাজারের মোট তহবিলের ৩৫ শতাংশ অর্থ মাজারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এবং অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ অর্থ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের কাজে ব্যয় করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কমিটির সভাপতি এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বেই মূলত ওই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি সম্পন্ন হয়েছিল।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রানি গোলাপি শাড়িতে স্বস্তিকার মুগ্ধকর সাজ ও মেকআপ টিপস

রানি গোলাপি শাড়িতে স্বস্তিকার মুগ্ধকর সাজ ও মেকআপ টিপস