ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা জরিমানায় আয়কর রিটার্ন জমা দিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা জরিমানায় আয়কর রিটার্ন জমা দিন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য হাতে বাকি রয়েছে মোটে দুই মাস। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত কর পরিশোধ করে যে কেউ আয়কর রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে এর ব্যত্যয় ঘটে ১ জানুয়ারি থেকে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের পড়তে হবে জরিমানার মুখে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বছর থেকে সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। এর ফলে প্রদেয় করের পরিমাণ এখন থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে। এমতাবস্থায় ১ জানুয়ারি বা তার পরে রিটার্ন জমা দিতে গিয়ে যদি কেউ কেবল নির্ধারিত কর পরিশোধ করে সাবমিট করতে চান, তবে এনবিআরের অনলাইন সিস্টেম সেই আবেদন আর গ্রহণ করবে না।

বর্তমানে দেশে মোট কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী নাগরিকের সংখ্যা সোয়া এক কোটি। এই বিশাল সংখ্যক করদাতার মধ্য থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে মাত্র ৫০ লাখের কাছাকাছি মানুষ আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে যাঁরা তাঁদের রিটার্ন দাখিল করেছেন, তাঁরা পরিশোধিত করের ওপর ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণ অর্থ ছাড় লাভ করবেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, রিটার্ন দাখিলের সময় যে পরিমাণ কর পরিশোধ করা হবে, কেবল সেই করের পরিমাণের ওপরই এই ছাড় প্রযোজ্য হবে।

বর্তমান সময়টি অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় প্রান্তিকে যাঁরা রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তাঁরা কোনো ধরনের ছাড়ের সুবিধা পাবেন না। এ সময়ে নির্ধারিত যে করের পরিমাণ আসবে, কেবল তা পরিশোধ করলেই চলবে, এর বিপরীতে কোনো প্রকার অতিরিক্ত প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকের মধ্যে যাঁরা রিটার্ন জমা দেবেন, তাঁদের মূল পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত হিসেবে ২ শতাংশ বা তিন হাজার টাকা, এই দুটির মধ্যে যেটি বেশি হয় সেই পরিমাণ অর্থ জরিমানা বা অতিরিক্ত হিসেবে দিতে হবে। আর মার্চ মাস পার হয়ে যাওয়ার পর রিটার্ন দাখিল করলে জরিমানার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।

অর্থবছরের একদম শেষ প্রান্তিক অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে যাঁরা তাঁদের রিটার্ন জমা দেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা পাঁচ হাজার টাকা, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে।

করদাতারা চাইলে খুব সহজেই ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড কিংবা বিকাশ, রকেট, নগদের মতো যেকোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ ব্যবহার করে নিজ ঘরে বসে খুব সহজেই কর পরিশোধ করতে পারেন এবং অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করতে পারেন।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়ায় যদি কোনো ধরনের জটিলতা বা সমস্যার সৃষ্টি হয়, তবে তাৎক্ষণিক তা নিরসনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়োজিত কর্মীরা একটি কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমের সাহায্যে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।

তবে কেবল অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েই একজন করদাতার সমস্ত দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পরবর্তীতে কর কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের নিরীক্ষা বা অডিটের মুখে পড়তে হলে যেন খুব সহজেই তা সংশ্লিষ্টদের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সযত্নে সংরক্ষণ করা উচিত। ভুলভাল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে সবসময়ই নানা ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চলতি মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পুলিশ সভা

চলতি মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পুলিশ সভা