ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে আজ ভোটাভুটি ইসরায়েলে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে আজ ভোটাভুটি ইসরায়েলে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সামনে আজ চরম অগ্নিপরীক্ষা উপস্থিত হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের এবারের নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ইসরায়েলি নাগরিকেরা। এই ভোটাভুটির মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে ডানপন্থী রাজনীতির এই শীর্ষ নেতার ভাগ্য। একদিকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত টিকিয়ে রেখে তিনি কি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন, নাকি তাঁকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে, তার উত্তর মিলবে এই নির্বাচনের ফলাফল থেকে।

গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইসরায়েলে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। ওই একই দিনে গাজায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পরবর্তী সময়ে তাঁর সরাসরি হাত ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বেঁধে ইরানের বিরুদ্ধেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইসরায়েল। এই দুটি সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার কারণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নেতানিয়াহু যেমন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তেমনি বৈশ্বিক অঙ্গনে ইসরায়েল রাষ্ট্রটিকেও কার্যত একেবারে একা করে দিয়েছে।

গাজা ও ইরানে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে এটিই প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ায় ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ অত্যন্ত প্রবল। বিগত দুই দশক ধরে ইসরায়েল শাসন করার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। কট্টর ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতি চর্চা করার পাশাপাশি যুদ্ধে জড়িয়ে নিজের নেতৃত্বসুলভ ক্যারিশমা প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, ভঙ্গুর জোট সরকার টিকিয়ে রেখে ইসরায়েলের অত্যন্ত দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দীর্ঘ প্রচেষ্টাও চালিয়ে গেছেন এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ।

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, ইসরায়েলের এই বহুধাবিভক্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু অন্যান্যদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকেন। তবে এবারের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ অতটা সহজ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভোটের ঠিক আগের মুহূর্তে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবার বড় ধরনের কঠিন চাপের মুখোমুখি হতে পারেন নেতানিয়াহু। ফলে এবারের নির্বাচনী লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মূলত লিকুদ পার্টির শীর্ষ নেতার দায়িত্বে আছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ডানপন্থী ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী শিবীরের বিভিন্ন দলগুলোকে নিজেদের জোটসঙ্গী বানিয়ে এবারও নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। নেতানিয়াহু সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই শরিক দল হলো কট্টর ডানপন্থী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন জিউইশ পাওয়ার পার্টি এবং বেজালেল স্মোত্রিচের নেতৃত্বাধীন রিলিজিয়াস জায়োনিজম। বর্তমানে ইতামার বেন-গভির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী হিসেবে এবং বেজালেল স্মোত্রিচ অর্থমন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

এর বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে মাঠে রয়েছে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু এবং ডেমোক্র্যাটস দলগুলোকে নিয়ে গঠিত প্রধান বিরোধী শিবির। এই বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইয়াশার দলের প্রধান এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকট। রাজনৈতিক অঙ্গনে ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী—উভয় শিবিরের কাছ থেকেই জোরালো সমর্থন পেয়ে আসছেন এই সাবেক সেনাপ্রধান।

দেশের প্রচলিত নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ইসরায়েলের সাধারণ ভোটাররা সরাসরি কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন না। তাঁরা মূলত তাদের পছন্দের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতীক বা মার্কায় ভোট দেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের দিন নির্ধারিত হওয়ার আগেই তাদের দলীয় প্রার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে থাকে। এরপর সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত মোট ভোটের অনুপাতে সংসদীয় আসনগুলো বিভিন্ন দলের মধ্যে বণ্টন করা হয়। নেসেটের আইনসভার ভেতর প্রবেশ করতে হলে যেকোনো রাজনৈতিক দলকে ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করতে হয়।

আসন্ন এই নির্বাচনে যদি বিরোধী জোট জয়লাভ করে, তবে গাদি আইজেনকটকে ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে জোরালোভাবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া টুগেদার দলের শীর্ষ নেতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও সরকারপ্রধান হওয়ার দৌড়ে শক্ত দাবিদার হিসেবে রয়েছেন। অন্যদিকে আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও নিজের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধান হওয়ার জোরালো দাবি পেশ করে চলেছেন।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে স্থানীয় সময় সকাল ঠিক সাতটায় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। বিরতিহীনভাবে এই ভোটাভুটি চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

চলতি নির্বাচনে ইসরায়েলজুড়ে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। দেশটির প্রধান সংসদ নেসেটের মোট ১২০টি আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, এককভাবে সরকার গঠনের জন্য কোনো দলকে অন্তত ৬১টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ইসরায়েলের ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দেন না। নাগরিকেরা তাঁদের পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট প্রদান করেন। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে তাদের প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে থাকে। সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন সম্পন্ন হয়। নেসেটে প্রবেশ করতে হলে দলগুলোকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়।

এবারের পুরো নির্বাচনী প্রচারণাকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মূলত মোটাদাগে দুটি প্রধান বিষয়কে সামনে রেখে নিজের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ানোর নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। প্রথম বিষয়টি হলো বর্তমান যুদ্ধাবস্থার সময় তাঁর নিজ নেতৃত্ব এবং দ্বিতীয় বিষয়টি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য ও জোরালো সমর্থন।

গত রোববার এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে আসা যেকোনো হুমকিকে ‘চিরতরে মুখে ফেলার’ উদ্দেশ্যে নতুন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন। তবে তিনি দাবি করেন যে, সেই লক্ষ্য তখনই কেবল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, যদি তিনি নিজে পুনরায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন।

অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকট ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু মূলত ‘ভীতি ছড়ানো, মিথ্যাচার এবং হুমকিমূলক প্রচারণার ওপর নির্ভর করে’ রাজনীতি করছেন। গাদি আইজেনকট দৃঢ়তার সঙ্গে আরও বলেন, ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের দ্বারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত যেকোনো নেতার সঙ্গেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পূর্ণ সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন—এটাই তাঁর অগাধ বিশ্বাস।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবারও তাঁর পুরোনো শরিক কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের ওপর সম্পূর্ণ ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছেন। তবে উল্লেখ্য যে, এই দুই নেতার প্রত্যেকের ওপরই পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংস কার্যকলাপে প্রকাশ্য উসকানি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো দেওয়া হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপের ফলাফল থেকে কট্টর ডানপন্থী ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার পার্টির প্রতি নির্দিষ্ট মাত্রার জনসমর্থন পাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কারও জন্যই ক্ষমতার মসনদে পৌঁছানোর পথটি মোটেও সুগম বা সহজ নয়। আজকের এই নির্বাচনে যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী বছরেই ইসরায়েলে আরেকটি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তত দিন পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দেশ পরিচালনা করে যেতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দেশটি বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উত্তাল ও সংকটময় সময়ের ভেতর দিয়ে সময় পার করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আকস্মিক হামলার নেতিবাচক অভিঘাত, গাজায় চলমান নিষ্ঠুর সামরিক অভিযান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নেতানিয়াহু সরকারের অতি ডানপন্থী নীতিমালার কারণে ইসরায়েলের সমাজ ও রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীদের অনেকেই ৭ অক্টোবরের ওই ভয়াবহ হামলার দিনে ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদানে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব কার ওপর বর্তায়, সেই বিষয়টি সামনে এনে জোরেশোরে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসরায়েলের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরিজীবী মালি হাজাজ পেশাগতভাবে গাদি আইজেনকটের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। মালি হাজাজের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা সবচেয়ে বেশি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একমাত্র এই কমিশনের মাধ্যমেই সমাজের গভীরে তৈরি হওয়া ক্ষতগুলো নিরাময়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

অন্যদিকে লিসা টরটর নামের এক সাধারণ ভোটার সরাসরি চাচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যেন ক্ষমতা থেকে সম্পূর্ণ বিদায় নেন। তিনি মনে করেন, দেশে অতিসত্বর নতুন একটি সরকার ক্ষমতায় আসা উচিত। কারণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেছেন, তা অন্তত কিছুটা হলেও মেরামত করতে সক্ষম হবে এই নতুন সরকার।

তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায় লিকুদ পার্টির তরুণ সমর্থক ১৮ বছর বয়সী নফ গাবের বক্তব্যে। তিনি ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ হামলার জন্য নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই দায়ী করতে নারাজ। তাঁর অটল বিশ্বাস, ইসরায়েল রাষ্ট্রের সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য নেতানিয়াহুই একমাত্র সঠিক ব্যক্তি। নফ গাবে আরও বলেন, নেতানিয়াহু তাঁর অবস্থান থেকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ভালো ও দক্ষ উপায়েই এই যুদ্ধ পরিচালনা করে আসছেন।

ইসরায়েলের প্রায় সব ইহুদি রাজনৈতিক নেতার মতো বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটও ফিলিস্তিন সংকটের ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক’ সমাধানের কঠোর বিরোধী। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে এই দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকেই সংকট নিরসনের জন্য বিগত কয়েক দশক ধরে চলা শান্তি আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন গাদি আইজেনকট। বিগত ২০২৩ সাল থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর এই ধরনের সহিংসতা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ঐতিহ্যগতভাবে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর অতি ডানপন্থী জোটসঙ্গী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের উগ্র অবস্থানেরও তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে অনেক ইসরায়েলি নাগরিক বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোদুল্যমান ভোটারদের নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি লিকুদ পার্টির ঐতিহ্যগত ও সুদৃঢ় রাজনৈতিক ঘাঁটিগুলোতেও এমন দৃশ্য হরহামেশা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এর বাইরে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে দীঘ সময় ধরে চলা একটি জটিল ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন নেতানিয়াহু। যদিও তিনি বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছেন, তবুও এই মামলার কারণে সমাজের বহু সাধারণ মানুষ নেতানিয়াহুর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদীর সেতুর নির্মাণকাজে ও অপর ঘটনায় দুজনের

ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদীর সেতুর নির্মাণকাজে ও অপর ঘটনায় দুজনের