ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নারী স্বাধীনতার পথে অদৃশ্য সুতোর টান ও সমাজ বাস্তবতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
নারী স্বাধীনতার পথে অদৃশ্য সুতোর টান ও সমাজ বাস্তবতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

দুই ভিন্ন দেশের দুটি ঘটনাপ্রবাহের মাঝে একটি অদৃশ্য সুতোর যোগসূত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথম ঘটনাটি মধ্য এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানের। সাত সন্তানের জননী দীবা নামের এক নারী ইরানে কর্মরত স্বামীর অনুপস্থিতিতে সেলাইয়ের কাজ করে নিজের সংসার চালান। সম্প্রতি বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ করা এবং স্যান্ডউইচ ক্রয়ের উদ্দেশ্যে তিনি একটি দোকানে প্রবেশ করেন। সেখানে হঠাৎ উপস্থিত হয় তালেবানের নৈতিকতা পুলিশ।

অনুমোদিত পুরুষ সঙ্গী বা মাহরাম ছাড়া ঘরের বাইরে আসার অভিযোগে তাঁকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে টানা পাঁচ দিন কারাবন্দী রাখা হয়। পরবর্তীতে এক তালেবান আদালতের মাধ্যমে জনসমক্ষে তাঁর মাথা মুড়ে দেওয়া হয় এবং ২৫টি চাবুক বা দোররার শাস্তির রায় কার্যকর করা হয়। লন্ডনের স্বনামধন্য গার্ডিয়ান পত্রিকা এই লোমহর্ষক ঘটনাটি বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করেছে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। গত ৮ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে উপস্থিত তিন তরুণীকে বিদেশযাত্রার প্রাক্কালে আটকে দেওয়া হয়। তাঁরা অবিবাহিত এবং সঙ্গে কোনো পুরুষ অভিভাবক বা মাহরাম নেই—এই অজুহাতে তাঁদের বহির্গমন ঠেকানো হয়। পরিবারের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়েই তাঁরা গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছিলেন, এই সত্য জানানোর পরও এক কর্মকর্তা তাঁদের একজনের বাবাকে সরাসরি ফোন করেন।

ওই কর্মকর্তা কৃষকের মেয়ে হয়ে বিদেশভ্রমণের আর্থিক সংস্থান কীভাবে হচ্ছে, সেই বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করেন। ঢাকার বিমানবন্দরের এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি জনসমক্ষে একটি অত্যন্ত গুরুতর প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। তা হলো, একজন প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন নারীর বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার কার হাতে ন্যস্ত—তাঁর নিজের নাকি বিমানবন্দরে আসীন কোনো কর্মকর্তার?

২০২১ সাল থেকে আফগানিস্তানে কঠোর আইনি বিধান জারি করে নারীদের পুরুষ অভিভাবক ব্যতিরেকে ঘরের বাইরে পদার্পণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। কিন্তু অলিখিত ও অদৃশ্য সেই রক্ষণশীল আইন আমাদের সমাজের স্বনিয়োগকৃত নীতি পুলিশরা নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করে চলেছেন।

বিমানবন্দরের এই বাধা প্রদানের ঘটনাটি সমাজে বিচ্ছিন্ন কোনো বিচ্ছিন্ন বা একক ঘটনা নয়। বিগত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সুনামগঞ্জ জেলায় স্থানীয় আলেম সমাজের তীব্র আপত্তির মুখে নারীদের একটি নির্ধারিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করতে বাধ্য হওয়া যায়। এমনকি চলতি সপ্তাহেই সুনামগঞ্জের হাতিয়া গ্রামে নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণের প্রতিবাদ জানিয়ে বাউলগানের একটি আসরও বাতিল করার পাঁয়তারা চালানো হয়।

তবে নানা বাধা ও আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে গানের আসর বসেছিল এবং নারী শিল্পীরা সাহসিকতার সঙ্গে গান পরিবেশন করেছিলেন। নারী সমাজ তাদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা একদিনে বা এক পলকে হারিয়ে ফেলে না। একেকটি খেলার মাঠ, একেকটি উন্মুক্ত রাস্তা কিংবা একেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে তাদের অধিকারের পরিধি থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

কখনো এই দমনপীড়ন প্রকাশ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে ঘটে, যেমনটি বর্তমানে আফগানিস্তানে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার কখনো তা সংঘটিত হয় সমাজ বা ব্যক্তির স্ব-আরোপিত নৈতিকতার ভ্রান্ত যুক্তিতে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে আমাদের বাংলাদেশে। এই উভয় ঘটনাই নারীর মানবাধিকার ও সামাজিক মর্যাদার চরম ও সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত।

নারী সমাজের পোশাক-আশাক নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বা কুকথার শিকার হওয়া আমাদের সমাজে এখন একটি নিত্যদিনের নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন নারী উপদেষ্টা এবং একজন নারী সংসদ সদস্যকে পর্যন্ত মাথায় যথাযথ কাপড় পরিধান না করার অজুহাতে প্রকাশ্যে হেনস্তার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক নারী কর্মীদের জন্য শালীন পোশাক পরিধানের বাধ্যবাধকতা সংবলিত নির্দেশনা জারি করার পর সর্বস্তরের প্রতিবাদের মুখে তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মলচত্বরেও রাত দশটার পরে প্রবেশ করতে গিয়ে এক নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির বাধার মুখে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে সাধারণ ছাত্রীদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে প্রক্টরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

দেশের কোথাও কোনো ক্রীড়াক্ষেত্রে, কোথাও কর্মক্ষেত্রে, আবার কোথাও বিমানবন্দরের মতো জনবহুল স্থানে নারীকে বারবার একটি নির্দিষ্ট বার্তাই দেওয়া হচ্ছে। তা হলো, একজন নারী কত দূর পর্যন্ত ভ্রমণ করবেন, কী ধরনের পোশাক পরিধান করবেন কিংবা কোথায় খেলাধুলা করবেন—তার শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর নিজের নয়।

এর চেয়েও অধিক বেদনাদায়ক বিষয় হলো, গত জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে এ দেশের নারীরা ছিলেন রাজপথের অত্যন্ত সাহসী ও অগ্রগামী মুখ। অথচ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী টেবিলে নারীদের কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব বা স্থান নেই। আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মাত্র সাতজন নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

দেশের প্রভাবশালী ইসলামি দলগুলো তাদের প্রার্থী তালিকা থেকে একজন নারীকেও ন্যূনতম মনোনয়ন দেয়নি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও প্রতিবাদের সময় নারীর সরব উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও ক্ষমতা ভাগের সময় তাঁদের সুকৌশলে পেছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, এটি কেমন ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমাজের অবক্ষয় ও নারীর অধিকার খর্ব করার অপচেষ্টা চালানো হয় পবিত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে। অথচ পরম সত্য হলো যে পবিত্র ইসলাম ধর্মে নারী ও পুরুষের সম্পূর্ণ সমানাধিকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামে নারী ও পুরুষের জন্য জ্ঞানার্জন বা শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধানিষেধ আরোপ করা হয়নি, বরং কঠোরভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।

মিশরের রাষ্ট্রীয় ফতোয়া প্রদানকারী সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান দার আল-ইফতা ২০১৩ সালে প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক ফতোয়ায় নিরাপদ যাতায়াতের সুনির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে নারীদের কোনো পুরুষ অভিভাবক বা মাহরাম ছাড়াই ভ্রমণের বৈধ অনুমতি দিয়েছে। নারী ও পুরুষের সমানাধিকারের এই বিষয়টি বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানেই অত্যন্ত জোরালোভাবে স্বীকৃত রয়েছে।

সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের চোখে সকলের সমতার কথা বলা হয়েছে, ২৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ৩৬ অনুচ্ছেদে দেশের যেকোনো স্থানে অবাধে চলাফেরা করা, দেশ ছেড়ে যাওয়া ও পুনরায় দেশে ফিরে আসার মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদের ১৫(৪) অনুচ্ছেদেও চলাফেরার স্বাধীনতায় নারী-পুরুষের সমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এই আন্তর্জাতিক সনদের অন্যতম স্বাক্ষরকারী একটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। আইনের এই সর্বজনস্বীকৃত বিধিগুলোকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে স্বনিয়োগকৃত নীতি পুলিশদের বেআইনি তৎপরতা মেনে নিলে অদূর ভবিষ্যতে সমাজ ও কর্মক্ষেত্র থেকে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি চিরতরে উবে যাবে।

এই ধরনের ক্ষতিকর প্রবণতাগুলোকে কোনো অবস্থাতেই সমাজের জন্য অনুকরণীয় ‘মডেল’ হিসেবে মেনে নেওয়া যাবে না। তবে বিভিন্ন কুচক্রী মহলের পক্ষ থেকে এই প্রবণতা প্রতিষ্ঠার জোর চেষ্টা চলছে, যা প্রতিহত করতে হবে কঠোর আইনি ভাষায় ও প্রতিবাদী সংহতির মাধ্যমে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সকল চোখরাঙানি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশের মেয়েরা তিল তিল করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে চলেছে।

নারীর এই সংগ্রামের ইতিহাস আমাদের মানবসভ্যতার সমপরিমাণ পুরোনো ও দীর্ঘস্থায়ী। সুদূর দুই হাজার বছর পূর্বে প্রাচীন রোমের নারীরা তাদের পোশাক-আশাক, অলংকার পরিধান এবং চলাচলের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাঁদের সেই সাহসী প্রতিবাদের ফলেই একসময় সেসব অন্যায্য বিধিনিষেধ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার অর্জনের দাবিতে দীর্ঘ বহু বছর ধরে চলা সংগ্রামী আন্দোলনের ফলেই ১৯২০ সালে মার্কিন সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীর মাধ্যমে সে দাবির আইনগত স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছিল। এমনকি মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতেও এ ধরনের অধিকার আদায়ের বহু সফল ইতিহাস রয়েছে।

মরক্কোতে দীর্ঘমেয়াদী নারী আন্দোলনের ফলেই ২০০৪ সালে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর বাধ্যতামূলক আইনি আনুগত্যের বিধান চিরতরে বাতিল করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার নারীরা প্রায় দশ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ২০২২ সালে পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভেতর সংঘটিত সকল যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস করাতে সক্ষম হন।

পাকিস্তানে ২০১৬ সালে পরিচালিত আইনি সংস্কারের ফলে পরিবার চাইলে আসামিকে ক্ষমা করে দিয়ে ‘অনার কিলিং’-এর মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি এড়ানোর সুযোগ অনেকাংশে সীমিত করা হয়েছে। বাংলাদেশেও দেশের নারী সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দীর্ঘ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই ২০১০ সালে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন পাস হয়েছিল।

এই প্রতিটি ছোট ছোট অধিকার অর্জনের বিজয় মূলত সুসংগঠিত ও দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফল। এতদিন ধরে এই কঠিন লড়াই প্রধানত দেশের মেয়েরা নিজেদের উদ্যোগে একাই চালিয়ে গেছেন। পুরুষ সমাজ যদি এই সংগ্রামে নারীর পাশে এসে হাত মেলায়, তবে নারী পুরুষের সমানাধিকার অর্জনের এই আন্দোলন আরও বহুগুণ বেগবান হবে।

বিমানবন্দরে পুরুষ অভিভাবকের অনুপস্থিতির অজুহাতে কাউকে বাধা দেওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ বা ব্যাখ্যা চাইতে হবে। যেমনটি দেখা গেছে বিমানবন্দরের ঘটনার পর তিন নারী উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছিলেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি গ্রহণ করে হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলসহ সুনির্দিষ্ট আদেশ প্রদান করেন এবং রিট আবেদনকারী তিন নারীর আনীত অভিযোগ যথাযথ নিয়মে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।

প্রতিটি অনৈতিক ও বৈষম্যমূলক ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের এবং আইনি প্রতিকারের সঠিক পথে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের কোথাও মেয়েদের খেলাধুলা বন্ধ করার কোনো হুমকি বা নিষেধাজ্ঞা আসলে শিক্ষক, অভিভাবক, ক্রীড়া সংগঠক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিদের এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে ঘোষণা দিতে হবে।

তাঁদের বলতে হবে যে খেলাধুলা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এবং এর পূর্ণ নিরাপত্তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কোনো দপ্তরে বা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্যমূলক কোনো নির্দেশনা জারি হলে তার আইনি ভিত্তি কী, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও কৈফিয়ত তলব করতে হবে।

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মুখে মুখে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নের মস্ত বড় প্রবক্তা হিসেবে নিজেদের জাহির করে থাকে। তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখতে হবে যে তারা কি নারীকে কেবল সংখ্যায় ভারী ভোট ব্যাংক হিসেবে দেখতে চায়, নাকি দলের প্রকৃত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চায়।

একই সঙ্গে দেশের মসজিদ, বিদ্যালয় ও স্থানীয় পাড়ার বৈঠকে এমন সব আলেম ও বিশিষ্ট নারীদের জায়গা করে দিতে হবে, যারা নারী ও পুরুষের সমানাধিকারকে একে অপরের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করেন না। পরিশেষে বলা যায়, নারী সমাজ তাদের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা একদিনে বা সহসা হারিয়ে ফেলে না।

একেকটি খেলার মাঠ, একেকটি চলাচলের রাস্তা কিংবা একেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে তাদের অধিকারের পরিধি থেকে বলপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়। কখনো এই দমনপীড়ন প্রকাশ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সংঘটিত হয়, যেমনটি আমরা আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ করছি।

আবার কখনো তা ঘটে সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্ন স্ব-আরোপিত নৈতিকতার ভ্রান্ত যুক্তির বশবর্তী হয়ে, যেমনটি বর্তমানে বাংলাদেশে ঘটছে। এই উভয় প্রবণতাই মূলত নারীর জন্মগত অধিকার এবং মানবমর্যাদার চরম লঙ্ঘন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘ

সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘ