নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
ভারতের ছোট পর্দার জনপ্রিয় ও আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘সিআইডি’ এবং ‘আহট’-এর খ্যাতিমান নির্মাতা ও প্রযোজক ব্রিজেন্দ্র পাল সিং, যিনি সবার কাছে বিপি সিং নামে সমাদৃত, না ফেরার দেশে চলে গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
আজ সকালের দিকে হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যुकোলে ঢলে পড়েন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা ও জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিনেতা ও চলচ্চিত্রশিল্পীদের সংগঠন সিনটার দায়িত্বশীল প্রতিনিধি অমিত বেহল এই নির্মাতার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর ধরে তিনি বিপি সিংয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন।
বিপি সিংয়ের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার অশোক পণ্ডিত এবং ‘সিআইডি’ নাটকের অত্যন্ত জনপ্রিয় চরিত্র দয়ার রূপকার দয়ানন্দ শেঠির মতো গুণীজনেরা।
প্রয়াত নির্মাতার সঙ্গে দীর্ঘ তিন দশকের স্মৃতির কথাচারণ করতে গিয়ে অমিত বেহল জানান, ‘আহট’ ও ‘সিআইডির’ মতো সাড়াজাগানো কাজের সুবাদে তাঁদের দীর্ঘ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। तकनीकी বা কারিগরি বিষয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞান ও অসাধারণ দক্ষতা ছিল। বাইরে থেকে গম্ভীর মনে হলেও তিনি ভেতরে অত্যন্ত দয়ালু ও সাহায্যকারী ছিলেন। অমিতের কাছে তিনি অভিভাবকতুল্য ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শোকবার্তা জানিয়ে পরিচালক অশোক পণ্ডিত উল্লেখ করেন যে, বিপি সিং ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন পরিচালক, যিনি অপরাধমূলক ‘সিআইডি’ এবং অতিপ্রাকৃত ঘরানার ‘আহট’ দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
‘সিআইডি’ ধারাবাহিকে দয়া চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করা অভিনেতা দয়ানন্দ শেঠি জানান, কাজের প্রতি প্রবল অনুরাগ ছাড়া তাঁর জীবনের অন্য কোনো লক্ষ্য ছিল না। অভিনয়ের পাশাপাশি ক্যামেরা পরিচালনাতেও তিনি ছিলেন অনন্য। বার্ধক্যজনিত কারণে কিছুদিন ধরে তাঁর স্বাস্থ্য ভালো যাচ্ছিল না।
ভারতীয় ছোট পর্দায় অপরাধ ও রহস্যভিত্তিক কনসেন্ট বা অনুষ্ঠান জনপ্রিয় করার পেছনে এই প্রয়াত নির্মাতার অবদান অনস্বীকার্য। ‘সিআইডি’ দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের পর্দায় ধরে রেখেছিল। অপরাধের অনুসন্ধান এবং দলগত অভিযান নাটকটিকে অনন্যতা দিয়েছিল।
অন্যদিকে, ‘আহট’ ধারাবাহিকটি ভৌতিক ও রহস্যময় গল্পের জন্য আলাদা পরিচিতি লাভ করে। প্রতিটি পর্বে নতুন গল্প উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে নিজের একটি স্থায়ী আসন তৈরি করে গেছেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
Daily Diner Alo