নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তেলেগু ও কানপুরী জনগোষ্ঠীর কর্মক্ষম ও যোগ্য বেকার যুবকদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সোমবার রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন প্রাঙ্গণে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শারদীয় দুর্গাবাসন্তীর উৎসব উপলক্ষ্যে তেলেগু এবং কানপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঠানো শুভেচ্ছা উপহার ও আর্থিক অনুদান তুলে দিতে এই আয়োজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
অনুষ্ঠানের বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তেলেগু ও কানপুরী জনগোষ্ঠীর মানুষের প্রধান এবং একমাত্র পরিচয় তাঁরা সবাই বাংলাদেশি। পরিচ্ছন্নতার পেশায় যুক্ত থাকার কারণে সামাজিক কিংবা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্র থেকে তাঁদের কোনোভাবেই বঞ্চিত করা চলবে না।
বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের জাতিগত অথবা সামাজিক বৈষম্যে বিশ্বাসী নন বলে জানান মীর শাহে আলম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণা করা সব নাগরিকের সমান অধিকারের নীতিতেই বর্তমান প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে এবং অতীতে কোনো মন্ত্রী এভাবে সরাসরি নিবাসে আসেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সকালে ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে অবগত হন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এরপরই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে অবিলম্বে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার আনন্দে শামিল হওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সেই বিশেষ তাগিদ ও নির্দেশ পাওয়ার পরপরই তাঁরা সরাসরি দয়াগঞ্জে ছুটে আসেন। এই আয়োজনে তেলেগু ও কানপুরী গোষ্ঠীর মোট ৬৮০টি পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয় এবং দুটি পূজা উদ্যাপন কমিটিকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনের বিষয়টিও অনুষ্ঠানের আলোচনায় প্রাধান্য পায়। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ১৭টি নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর গোচরে এনে যত দ্রুত সম্ভব তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
প্রশাসক মো. আবদুস সালাম তাঁর বক্তব্যে জানান যে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যা চিরতরে দূর করতে স্থায়ী ভবন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একটি স্থানে দুটি এবং অন্য একটি স্থানে ১৭টি বহুতল ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।
জরাজীর্ণ ও মানবেতর আবাসিক ব্যবস্থার পরিবর্তে খুব শীঘ্রই নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রশাসক। একই সঙ্গে এই জনপদের বাসিন্দাদের সুপেয় পানির দীর্ঘমেয়াদি সংকট দূর করা এবং তাঁদের জন্য একটি প্রার্থনার মন্দির নির্মাণেরও জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
উক্ত কল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তাগণ ছাড়াও তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
Daily Diner Alo