নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের দিনেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, উগ্র ডানপন্থী ভোটারদের রাজনৈতিকভাবে চাঙ্গা করার অসৎ উদ্দেশ্যে নির্বাচনের দিনক্ষণ মাথায় রেখেই পশ্চিম তীরে সামরিক নিপীড়ন জোরদার করা হয়েছে। তবে তেল আবিব প্রশাসনের দাবি, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন হামলার উপযুক্ত জবাব দিতেই মূলত এই কঠোর সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার আয়োজিত এই প্রতিবাদ মিছিলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশাপাশি নারী, পুরুষ এবং শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বয়োবৃদ্ধ এক ফিলিস্তিনির হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, ‘সম্মিলিত শাস্তি নয়, অবরোধ নয়, বাস্তুচ্যুতিও নয়।’
এদিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ গত সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক অত্যন্ত উদ্বেগজনক এক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযਾਨের তীব্রতার কারণে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে তাদের নিজ বসতভিটা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জোরালোভাবে বলেন যে, নিরীহ জনগণের ওপর এই ধরনের সম্মিলিত শাস্তি প্রদান আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক ও গুরুতর লঙ্ঘন। তাছাড়া, ফিলিস্তিনিদের পুরো জনপদ জনশূন্য করে দেওয়ার যেকোনো ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুনির্দিষ্ট জাতিগত নিধনের গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, একটি তল্লাশিচৌকিতে অতর্কিত হামলার ঘটনার পর থেকেই পশ্চিম তীরের সিংহভাগ ফিলিস্তিনি শহর ও জনবসতির প্রধান প্রবেশপথগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে অবরুদ্ধ এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের স্বাধীনতা এখন মারাত্মকভাবে ও নজিরবিহীনভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
Daily Diner Alo