ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞানীদের সাফল্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভাইরাস তৈরি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 7, 2026 ইং
বিজ্ঞানীদের সাফল্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভাইরাস তৈরি ছবির ক্যাপশন: বিজ্ঞানীদের সাফল্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভাইরাস তৈরি
ad728
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন এবং পরীক্ষাগারে কার্যকরভাবে বংশবিস্তার করতে সক্ষম ভাইরাস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। বিজ্ঞানীদের দাবি, ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এআই-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভাইরাসের জিনোম সফলভাবে নকশা করা হয়েছে।গবেষকদের তৈরি ১৬টি নতুন ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম হলেও এগুলো মানুষের জন্য কোনো হুমকি নয়। এই সাফল্যকে বিজ্ঞানীরা চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই দিয়ে ভাইরাস তৈরি করার সক্ষমতা ভবিষ্যতে জৈব নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে।স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হাই জানান, এর আগে এআই ব্যবহার করে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হলেও সম্পূর্ণ নতুন এবং কার্যকর ভাইরাসের ডিজাইন করা অনেক বেশি জটিল।তিনি বলেন, ‘এটি জেনারেটিভ এআই-এর সক্ষমতার নতুন ধাপ। প্রথমবারের মতো এআই একটি সম্পূর্ণ জিনোম তৈরি করেছে, যা কোষের ভেতরে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন জৈবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম। এটি আমাদের জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা।’গবেষণায় ব্যবহৃত Evo1 ও Evo2 নামের এআই মডেলগুলোকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের জেনেটিক তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।পরে সেগুলোকে এমনভাবে উন্নত করা হয়, যেন তারা ব্যাকটেরিওফেজ নামের বিশেষ ধরনের ভাইরাস তৈরি করতে পারে, যা কেবল নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকেই সংক্রমিত করে।

গবেষকরা এআই-এর তৈরি ৩০২টি সম্ভাব্য নকশার মধ্যে পরীক্ষাগারে সংশ্লেষণ করেন। এর মধ্যে ১৬টি সফলভাবে ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

স্ট্যানফোর্ডের পিএইচডি গবেষক স্যামুয়েল কিং বলেন, পরীক্ষার সময় পেট্রি ডিশে ব্যাকটেরিয়ার স্তরের মধ্যে পরিষ্কার দাগ দেখা দেওয়ার পরই তারা বুঝতে পারেন যে নতুন ভাইরাসগুলো কার্যকর হয়েছে। ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর গবেষণাগারে উপস্থিত সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতালিতে ফেটে পড়েন।গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের নতুন ব্যাকটেরিওফেজ তৈরি করে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।

তবে এই গবেষণা কৃত্রিম জীববিজ্ঞান (সিন্থেটিক বায়োলজি)-এর নতুন দিগন্তও উন্মোচন করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, একই প্রযুক্তি অপব্যবহার করে ভবিষ্যতে নতুন রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসও তৈরি করা হতে পারে।

সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার সঙ্গে থাকা এক মন্তব্যে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির গবেষক ড. থমাস ইংলেসবি ও ড. মরিটজ হ্যাঙ্কে বলেন, এই অগ্রগতি ‘জরুরি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি প্রশ্ন’ সামনে নিয়ে এসেছে। প্রশ্ন হলো—এই প্রযুক্তি কীভাবে এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে যেন মানবজাতির কোনো ক্ষতি না হয়।গবেষকরা জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এমন ভাইরাস গবেষণার বাইরে রেখেছেন। এ ছাড়া পুরো গবেষণাই উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন পরীক্ষাগারে পরিচালিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ভাইরাস এখনো জীবিত প্রাণী নয় এবং এআই-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ জীবন্ত প্রাণী তৈরি করতে আরো অনেক দূর যেতে হবে। তবে স্ট্যানফোর্ডের গবেষক ব্রায়ান হাই স্বীকার করেন, ভবিষ্যতে আরো জটিল জীব তৈরি করার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।স্পেনের পম্পেউ ফাবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক গুয়েল এই গবেষণাকে ‘বিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা কম্পিউটারে বসে জীববিজ্ঞান ডিজাইন করতে শুরু করেছি।’

অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক প্যাট্রিক কাই বলেন, এই গবেষণা শুধু ব্যাকটেরিওফেজ তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভবিষ্যতে এআই-নির্ভর জিনোম নকশা ও নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তির পথ আরো প্রশস্ত করবে।

সূত্র : বিবিসি



নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন

রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন