নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
ইয়েমেনের প্রভাবশালী হুতি বিদ্রোহীগোষ্ঠী তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রচারণায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কৌশল হিসেবে মার্কিন অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইনের বহুল আলোচিত নথিগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছিল বলে সেসময়ে সংশ্লিষ্ট কারাগারের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিলেন।
ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি হিসেবে পরিচিত মার্কিন এই অর্থলগ্নিকারী ও অপরাধীর নাম হুতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা আবদুল মালিক আল-হুতির বিভিন্ন প্রকাশ্য বক্তৃতায় অত্যন্ত নিয়মিতভাবে উচ্চারিত ও আলোচিত হয়ে থাকে। বিগত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রদত্ত এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে এই হুতি নেতা দাবি করেছিলেন যে, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন নথিগুলোকে অত্যন্ত গভীর ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা একান্ত প্রয়োজন।
আবদুল মালিক আল-হুতির মতে, ওই প্রকাশিত নথিগুলোতে মূলত এমন একটি সুনির্দিষ্ট জায়নবাদী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভয়ংকর সব চিত্র উন্মোচিত হয়েছে, যেখান থেকে বিশ্বমানের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের উচ্চবিত্ত অভিজাত শ্রেণিকে বিশেষভাবে তৈরি করা হতো।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থলগ্নিকারীর প্রসঙ্গ টেনে হুতিদের এই অভিনব প্রচারকৌশল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনতে শুরু করেছে। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, অন্তত একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত গোপন নথিগুলো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ও ধারাবাহিক পোস্ট করে যাওয়া ডানপন্থী মতাদর্শের জনপ্রিয় পডকাস্টার জেক শিল্ডস প্রকাশ্যে হুতিদের এই দৃঢ় মানসিকতা ও অবস্থানের জোরালো প্রশংসা করেছেন।
হুতিদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে পডকাস্টার জেক শিল্ডস নিজের সন্তোষ প্রকাশ করে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি মূলত ওই গোষ্ঠীর একজন বড় ভক্ত এবং তার ব্যক্তিগত মূল্যায়নে তারা বেশ দুর্ধর্ষ প্রকৃতির একটি শক্তি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
Daily Diner Alo