ঢাকা | বঙ্গাব্দ

যে ৫টি সেকেলে ডেটিং কৌশল মেনে চলছে না বর্তমান প্রজন্ম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2026 ইং
যে ৫টি সেকেলে ডেটিং কৌশল মেনে চলছে না বর্তমান প্রজন্ম ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

এক প্রজন্মের ব্যবধানেই প্রেম এবং সম্পর্কের প্রচলিত ধরনগুলোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। সম্পর্কের প্রকৃত অর্থ কী এবং সেই সম্পর্কে একজন মানুষ অপরজনের কাছে ঠিক কী প্রত্যাশা করেন—শুরুতেই এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে নিতে চান বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও সংশয় যখন বাড়তে থাকে, তখন অনেকে বিনা দ্বিধায় সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসেন। পুরোনো ডেটিং অভ্যাসের বেশ কিছু বিষয়কে জেন–জি প্রজন্ম পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে এবং সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এই লক্ষণগুলোকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছেন।

কাউকে মনে ধরলেও ইচ্ছা করেই দীর্ঘক্ষণ মেসেজের জবাব না দেওয়া, নিজের মনের আগ্রহ ও ভালো লাগা গোপন করা কিংবা সব সময় অন্য মানুষের প্রারম্ভিক উদ্যোগের অপেক্ষায় বসে থাকা—একসময় ডেটিংয়ের দুনিয়ায় এগুলো খুব পরিচিত ও প্রচলিত কৌশল ছিল। সেই সময়ে সাধারণ ধারণা ছিল যে, অতিরিক্ত আগ্রহ প্রকাশ করলে হয়তো নিজেকে সহজলভ্য বা মরিয়া হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে। কিন্তু এর বিপরীতে জেন–জি প্রজন্ম নিজেদের অনুভূতি ও আগ্রহ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা দ্রুত বার্তা দেখা এবং দ্রুত উত্তর প্রদান করাকে ইতিবাচক একটি লক্ষণ বা ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ হিসেবে গণ্য করছে।

পরস্পরের মধ্যে মেসেজ চালাচালি চলতে থাকা, নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমের রিল আদান-প্রদান হওয়া এবং কথাবার্তাও বেশ জমে ওঠার পরও সম্পর্কটি আদতে কোন গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছে তা পরিষ্কার না হওয়া ডেটিংয়ের একটি পরিচিত চিত্র। সপ্তাহের পর সপ্তাহ কিংবা মাসের পর মাসের এই অনিশ্চিত কথোপকথনের পর্যায়কে বলা হয় ‘টকিং স্টেজ’। কিন্তু জেন-জির অনেকেই এখন এই দীর্ঘমেয়াদী টকিং স্টেজে আটকে থাকতে মোটেও আগ্রহী নন।

সঙ্গী আসলে কী চাচ্ছেন এবং তাঁদের এই সম্পর্কটি ঠিক কোথায় গিয়ে ঠেকছে—খুব সরাসরি এই ধরনের প্রশ্ন করার ধারাটি তারাই ট্রেন্ডে নিয়ে এসেছে। এই ধরনের প্রশ্ন করতে কিছুটা মানসিক অস্বস্তি কাজ করতেই পারে, তবে সঠিক উত্তর আগে থেকেই জানা থাকলে মাসের পর মাস ধরে কোনো অর্থহীন ‘গেসিং গেম’ খেলে অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাতে হয় না।

প্রেমের সম্পর্কে সামান্য মাত্রার ঈর্ষা প্রদর্শণ করাকে একসময় বেশ রোমান্টিক বিষয় হিসেবে দেখা হতো। সঙ্গী কার সঙ্গে কথা বলছেন, কোথায় যাতায়াত করছেন কিংবা কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন—এসব বিষয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল বা নজরদারি দেখালেও অনেকে মনে করতেন এর আসল অর্থ হলো মানুষটি তাঁকে ভীষণ ভালোবাসেন।

কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের অনেকেই এখন এই পুরনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন এবং প্রশ্ন তুলছেন। কারও প্রতি আন্তরিকভাবে যত্নশীল হওয়া আর তাঁকে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া কিংবা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা কখনোই এক বিষয় হতে পারে না। সঙ্গীর মুঠোফোন চেক করা, তিনি কার সঙ্গে মিশবেন বা কার সঙ্গে মিশবেন না তা নির্ধারণ করে দেওয়া কিংবা নিজের মতো করে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্য তাঁকে অপ্রয়োজনীয় অপরাধবোধে ভোগানো—এই প্রতিটি আচরণকে জেন–জি প্রজন্ম সঙ্গীর মানসিক অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসহীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই বিবেচনা করে।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে নজরদারি বা খবরদারি চালানোর চেয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহজভাবে একে অন্যকে আপন করে নেওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই তাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ডেটে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষকেই বিল পরিশোধ করতে হবে কিংবা পুরুষ মানুষটিই কেবল প্রথম ডেটে আমন্ত্রণ জানাবে—এমন একটি ধারণা সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল। জেন-জির কাছে এই বিষয়গুলো কোনো ধরনের লিঙ্গভিত্তিক প্রত্যাশা বা ভালোবাসার সত্যিকারের পরীক্ষা নয়; বরং পুরো বিষয়টি নির্ভর করে সম্পূর্ণ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার ওপর। যে কেউ চাইলে অপর পক্ষকে প্রথম ডেটে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন এবং যেকোনো পক্ষই বিল পরিশোধ করতে পারেন।

দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে অনেকটা সময় কাটানো হয়েছে কেবল এই যুক্তিতে একটি অসুস্থ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার প্রবণতাও তারা বর্জন করেছে। সম্পর্কটি হয়তো তিন বছরের দীর্ঘ কিংবা পরিবার ও বন্ধুরা ধরে নিয়েছেন যে দুজনের একসময় বিয়ে হবে—এই জাতীয় সামাজিক কারণে অনেকে অসুখী ও বিষাক্ত সম্পর্কের ভেতরেও বন্দি হয়ে থাকেন। তবে জেন-জির অনেকেই এই ধারণাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কোনো সম্পর্ক অনেক দীর্ঘদিনের পুরনো হলেই যে তা একটি ভালো ও সুস্থ সম্পর্ক হবে, এমন কোনো অবধারিত নিয়ম নেই। অতীতের সময়, একসঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতি, পরিস্থিতির কারণে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া কিংবা চারপাশের মানুষের প্রত্যাশা—এর কোনোটিই একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত ও যৌক্তিক কারণ হতে পারে না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো দুর্গাপূজা

নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো দুর্গাপূজা