
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
প্রিয় মানুষকে স্নেহ ও ভালোবাসা প্রকাশের অত্যন্ত সহজ ও প্রচলিত একটি মাধ্যম হলো তাকে জড়িয়ে ধরা বা আলিঙ্গন করা। এই ধরনের একটি আন্তরিক আলিঙ্গন যেকোনো মানুষের মনে গভীর মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে এবং কাছের মানুষটির সঙ্গে মনের এক দারুণ আবেগের সংযোগ তৈরি করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। কিন্তু যখন এই পরিচিত এবং সহজ স্বাভাবিক আলিঙ্গনটিই কারো ক্ষেত্রে গুরুতর কোনো শারীরিক আঘাতের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত অবাক করার মতো একটি ঘটনা হিসেবে দেখা দেয়।
সম্প্রতি এশিয়ার দেশ চীনের একটি দম্পতির দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া এমনি একটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ঘটনা বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্বামীর ভালোবাসার এক নিবিড় আলিঙ্গনের ঠিক পরপরই তার স্ত্রীর শরীরের মোট পাঁচটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং অপর আরেকটি পাঁজরে একটি সূক্ষ্ম ফাটল দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পেছনের মূল কারণ হিসেবে গুরুতর অস্টিওপোরোসিস তথা হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি বেশ ব্যতিক্রমী এবং বিরল হলেও এটি সবাইকে খুব স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের শরীরের অভ্যন্তরে হাড়ের দুর্বলতা তৈরি হলেও অনেক সময় তা বাইরে থেকে খুব সহজে বোঝা সম্ভব হয় না। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, চীনের জিয়াংসু প্রদেশের স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াং নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর ঠাণ্ডা লাগার কথা নিজ কানে শোনার পর তাকে ভালোবেসে উষ্ণতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জড়িয়ে ধরেন। স্ত্রীকে উষ্ণতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা ঠিক সেই আলিঙ্গন পর্বটি শেষ হওয়ার পরপরই ওই নারী বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে বসে পড়েন।
তীব্র ব্যথার কারণে স্বাভাবিকভাবে সোজা হয়ে দাঁড়ানোও সেই মুহূর্তে তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। প্রথমে এই শারীরিক আঘাতটিকে তেমন একটা গুরুতর কিছু বলে মনে করা না হলেও, ঘটনার ঠিক পরের দিন তিনি হাসপাতালে গিয়ে বুকের একটি সিটি স্ক্যান করান। স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা দেখতে পান যে তাঁর বুকের পাঁচটি পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে এবং অপর আরেকটি হাড়ের গায়ে সূক্ষ্ম একটি ফাটল রয়েছে।
চিকিৎসকেরা তখন তাঁকে জানান যে তাঁর শরীরের হাড়গুলো ইতিমধ্যেই অত্যন্ত গুরুতরভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ওই নারীর শারীরিক ওজন ছিল মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ কেজির মতো। তিনি নিয়মিত কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণ বা ডায়েট করতেন, প্রায়ই নিজের রাতের খাবার খাওয়া বাদ দিতেন, প্রতিদিন নিয়মিত কফি পান করতেন এবং খুব কম সময় ঘরের বাইরে রোদে বা খোলা বাতাসে কাটাতেন।
চিকিৎসা গ্রহণের পর চিকিৎসকেরা তাঁকে কোনো ধরনের বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই শুধুমাত্র পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তাঁর দৈনন্দিন জীবনের এই অভ্যাসের ঠিক কোনটি তাঁর হাড়ের এই দুর্বলতার জন্য ঠিক কতটা পরিমাণে দায়ী, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলার মতো পর্যাপ্ত বিস্তারিত চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সে সময় প্রকাশিত হয়নি। তাই পুরো ঘটনাটিকে শুধুমাত্র তাঁর খাদ্যাভ্যাস কিংবা অতিরিক্ত কফি পানের একমাত্র ফল হিসেবে বিবেচনা করাটা একদমই ঠিক হবে না।
একজন সুস্থ এবং স্বাভাবিক শক্তির হাড়ে শুধুমাত্র সাধারণ একটি আলিঙ্গনের কারণে একাধিক পাঁজর একসঙ্গে ভেঙে যাওয়া অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। তবে মানুষের হাড়ের স্বাভাবিক গঠন যদি ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে যায়, তবে তুলনামূলকভাবে অনেক কম চাপে কিংবা সামান্য আঘাতেও সেখানে ফাটল বা ভাঙন দেখা দিতে পারে। মানবদেহের পাঁজরের হাড়গুলো মিলে মূলত বুকের একটি শক্ত খাঁচা তৈরি করে, যা মানুষের ভেতরের হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে সব সময় সুরক্ষা দিয়ে থাকে।
হাড়ের খনিজ ঘনত্ব এবং এর অভ্যন্তরীণ কাঠামো যদি কোনো কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে যেকোনো ধরনের চাপ সহ্য করার সহজাত ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমে যায়। খুব শক্ত করে অন্য কাউকে জড়িয়ে ধরা, হঠাৎ করে নিজের দিকে জোরে টেনে নেওয়া কিংবা আলিঙ্গন করার সময় কাউকে মাটি থেকে শরীর তুলে ফেললে বুকের খাঁচার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। মানুষের হাড়ের সহনক্ষমতা যদি কম থাকে, তবে এই ধরনের সাধারণ শারীরিক চাপেও মারাত্মক আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বা ডব্লিউএইচওর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের কারণে মানুষের হাড় এতটাই ভঙ্গুর হয়ে উঠতে পারে যে সামান্য একটি আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। মানুষের পাঁজরের হাড়েও এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ভাঙন হওয়াটা সম্পূর্ণ অসম্ভব কিছু নয়। অস্টিওপোরোসিস হলো মূলত এমন একটি নীরব রোগ, যাতে হাড়ের খনিজ ঘনত্ব এবং এর অভ্যন্তরীণ কাঠামোর শক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
এর ফলে হাড়গুলো অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং যেকোনো স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় খুব সহজেই ভেঙে যেতে পারে। এই রোগটি যখন তার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তখন সাধারণত শরীরে তেমন কোনো বড় ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ পায় না। এই কারণে বহু মানুষ নিজেদের হাড় ভেঙে যাওয়ার পরই কেবল জানতে পারেন যে তাদের শরীরে আগে থেকেই অস্টিওপোরোসিস রোগটি বাসা বেঁধেছিল। মানুষের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই নির্দিষ্ট রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও স্বাভাবিকভাবেই অনেকখানি বেড়ে যায়।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় পার হওয়ার পর তাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় হাড়ের ক্ষয় অনেক দ্রুত হতে পারে। তবে বয়সের তুলনায় অল্প বয়সেও বিভিন্ন ধরনের রোগ, শরীরের পুষ্টির ঘাটতি কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাবেও হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে এমন কয়েকটি প্রধান বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডির মারাত্মক ঘাটতি।
কারণ মানুষের হাড়ের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে এই দুটি পুষ্টি উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খাওয়া এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনসহ অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতিও হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষের স্বাভাবিকের তুলনায় কম শারীরিক ওজন হাড়ের ক্ষয় হওয়ার এবং তা সহজেই ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের শারীরিক ব্যায়াম না করা এবং চলাফেরা একদম কমে যাওয়া হাড়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি বিষয়। হরমোনের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু হরমোনজনিত সমস্যা এবং দীর্ঘদিন ধরে কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের ফলেও হাড়ের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের পারিবারিক ইতিহাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
তবে শুধুমাত্র কম ওজন থাকা, অতিরিক্ত কফি পান করা কিংবা রোদে কম সময় কাটানোর মতো সাধারণ তথ্যগুলো দিয়ে যেকোনো মানুষের অস্টিওপোরোসিসের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। অস্টিওপোরোসিস রোগটিকে চিকিৎসকেরা প্রায়ই একটি নীরব রোগ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। এর কারণ হলো, হাড়ের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমতে থাকলেও এর প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ধরনের শারীরিক ব্যথা কিংবা অন্য কোনো স্পষ্ট উপসর্গ চোখে না–ও পড়তে পারে।
কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ অবশ্য মানুষের শরীরের হাড়ের দুর্বলতার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে পারে। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে সামান্য কোনো আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়া, মেরুদণ্ডের হাড়ে ভাঙন ধরার কারণে মানুষের উচ্চতা কমে যাওয়া কিংবা শরীরের ওপরের অংশ সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়া। তবে এই ধরনের কোনো লক্ষণ শরীরে দৃশ্যমান না থাকলেও যেকোনো মানুষের ভেতরে অস্টিওপোরোসিস রোগটি লুকিয়ে থাকতে পারে।
কারো শরীরে যদি এই ধরনের ঝুঁকির কোনো কারণ বিদ্যমান থাকে, তবে চিকিৎসকেরা দ্রুত হাড়ের ঘনত্ব পরিমাপ করার জন্য বিশেষ পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে ডুয়াল-এনার্জি এক্স-রে অ্যাবজরপশিওমেট্রি বা সংক্ষেপে ডিএক্সএ পরীক্ষা। এই বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের শরীরের হাড়ের ভেতরের খনিজ ঘনত্ব নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা হয়ে থাকে। মানুষের বয়স, পূর্বে হাড় ভেঙে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস, পরিবারের হাড়ের রোগের ইতিহাস, হরমোনের বর্তমান অবস্থা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ঝুঁকি বিবেচনা করে এই ধরনের পরীক্ষার প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়।
বিশেষ করে মানুষের শরীরের সামান্য কোনো আঘাতে যদি হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে শুধুমাত্র সেই ভাঙনস্থানের চিকিৎসা করেই চিকিৎসকদের থেমে থাকা একদমই উচিত নয়। এর মূল কারণ হিসেবে শরীরের ভেতরের হাড়ের কোনো দুর্বলতা লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মানুষের হাড়গুলো সার্বিকভাবে ভালো রাখতে কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে বরং সব সময় একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিদিনের নিয়মিত খাবারের তালিকায় ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিনসহ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবারের মধ্যে রয়েছে খাঁটি তরল দুধ, টক দই, কাঁটাসহ সহজে চিবিয়ে খাওয়া যায় এমন ছোট মাছ এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার। মানুষের বয়স এবং শারীরিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
শরীরের ভেতরে ক্যালসিয়াম সঠিকভাবে শোষণের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতিদিন নিয়মিত সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে মানুষের মানবদেহের ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি তৈরি হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি কিছু সুনির্দিষ্ট খাবার থেকেও এই প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি খুব সহজে পাওয়া সম্ভব। তবে শুধুমাত্র রোদ পোহালেই যে সবার ভিটামিন ডির শারীরিক চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হয়ে যাবে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা নেই।
প্রয়োজনবোধে চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সম্পূরক খাদ্য গ্রহণ করা যেতে পারে। মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিনের জোগান দিতে ডিম, সামুদ্রিক ও দেশি মাছ, দুধ, ডাল এবং অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত, যা মানুষের পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় দারুণভাবে ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত খাবার খাওয়া কিংবা খুব দ্রুত নিজের ওজন কমিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণ বা ক্র্যাশ ডায়েট এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম যেমন প্রতিদিন সকালে নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি দিয়ে সাবধানে ওপরে ওঠা এবং ব্যক্তির নিজস্ব শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন ভার বহনকারী ব্যায়াম হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বেশ সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম মানুষের পেশির শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং শরীরের ভারসাম্য উন্নত করতেও বেশ সাহায্য করে থাকে। তবে যেসব মানুষ ইতিমধ্যে অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা যাঁদের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, তাঁদের যেকোনো ধরনের ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মানবদেহের হাড়ের সুস্বাস্থ্য দীর্ঘকাল রক্ষা করার জন্য প্রতিদিন ধূমপানের মতো বদঅভ্যাস এড়িয়ে চলা, শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টির জোগান নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় জীবনযাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়, তবে কি নিজের প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা সত্যিই কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ?
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।