
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
মাদক ব্যবসা, অপরাধ কর্মকাণ্ড, নানান অনিয়ম এবং দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা গণমাধ্যমকর্মীদের সুনির্দিষ্ট পেশাগত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। নানা ধরনের জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দেশের সাংবাদিকেরা সাহসিকতার সঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) মতো অত্যন্ত দায়িত্বশীল একটি পদে আসীন থেকে এ ধরনের অপরিপক্ব ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করার ফলে অপরাধী চক্র ও মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ওপর কাজের পরিবেশ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আইজিপির এই বক্তব্য সামগ্রিকভাবে সম্পূর্ণ অপেশাদার, তীব্রভাবে নিন্দনীয়, চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন, আপত্তিকর এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিক নেতাদের মতে, যদি কোনো নির্দিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থেকেই থাকে, তবে তা অবশ্যই যথাযথ তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সমাধান করতে হবে।
তবে এই ধরনের অরুচিকর ভাষা ব্যবহার করে নেতিবাচক ও আপত্তিকর মন্তব্য করার মাধ্যমে একদিকে যেমন সমগ্র সাংবাদিক সমাজের অর্জিত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি সাধারণ মানুষের মনে গণমাধ্যমের ওপর থাকা আস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নেতারা অবিলম্বে পুলিশপ্রধানকে তাঁর এই বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার পাশাপাশি দেশবাসীর সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
তারা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারপূর্বক ক্ষমা চাওয়া না হয়, তবে দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা এবং পেশাদার সাংবাদিকদের নিজ নিজ সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে তাঁরা কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা