
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে অনুমোদিত চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কথা ছিল। কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় এই বরাদ্দগুলো প্রদান করা হয়েছিল।
প্রকল্পগুলোর প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিগত ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করার কথা নির্ধারিত ছিল। সেই সময় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সভাপতিদের অনুকূলে অগ্রিম হিসেবে প্রথম কিস্তির অর্থও ছাড় করা হয়েছিল। তবে শুরুর দিকে কাজ পরিচালনার তদারকি করার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন সেই সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন। পরবর্তী সময়ে দাপ্তরিক বদলিজনিত কারণে তিনি অন্য কর্মস্থলে চলে যাওয়ায় তদারকি প্রক্রিয়ায় একধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়।
দীর্ঘসূত্রিতা ও নানাবিধ জটিলতার মধ্য দিয়ে গত ৩০ জুন এই সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়। অথচ মেয়াদ শেষ হওয়ার এই দীর্ঘ চার মাস সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের কাজই শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে গ্রামীণ জনপদের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
নির্দিষ্ট তথ্যানুযায়ী, কাবিটা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় পলবান্ধা ইউনিয়নের দক্ষিণ সিরাজাবাদ ডিহিদার বাড়ি কবরস্থানের দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই নির্দিষ্ট কাজটি সম্পন্ন করার জন্য সর্বমোট ৩ লাখ ৭ হাজার ১৮৭ টাকা আর্থিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া একই কবরস্থানের পশ্চিম দিকের অংশে আরেকটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। টেস্ট রিলিফ বা টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতাভুক্ত এই কাজের বিপরীতে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪০১ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, গাইবান্ধা ইউনিয়নের অধীন এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গাইবান্ধা ঈদগাহ সড়কটি সিসিকরণ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই রাস্তাটি পাকাকরণ বা সিসিকরণের জন্য কাবিটা কর্মসূচির প্রথম ধাপের আওতায় অবধারিতভাবে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
এর পাশাপাশি চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম বামনা এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে একটি ইউড্রেন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। স্থানীয় আব্দুর রশিদ মেম্বারের বাসভবন থেকে শুরু করে মুনুর বাড়ির পার্শ্ববর্তী রাস্তা পর্যন্ত এই ইউড্রেন নির্মাণের জন্য টিআর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সবমিলিয়ে এই চারটি পৃথক উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২০ হাজার ৯৪৫ টাকায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও এবং নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার চার মাস পরেও কোনো প্রকল্পেরই দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা