
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
শরীয়তপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের স্বার্থের কথা না ভেবে পুরো জেলার সামগ্রিক অগ্রগতি ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে পূর্বনির্ধারিত জায়গাতেই এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করতে হবে।
বক্তারা মানববন্ধনে জোরালো ভাষায় উল্লেখ করেন যে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল কোনো একটি বিশেষ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নতির মাধ্যম নয়। বরং এটি সমগ্র জেলার উচ্চশিক্ষা বিস্তার, গবেষণা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
ক্যাম্পাস স্থাপনের সুনির্দিষ্ট স্থান চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ এলাকার সংকীর্ণ স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। এর পরিবর্তে জেলার সার্বিক যোগাযোগ পরিকাঠামো, সাধারণ নাগরিক সুবিধা, শিক্ষার্থীদের সহজ যাতায়াত এবং দীর্ঘ মেয়াদের উন্নয়ন চিন্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন তাঁরা।
এ সময় আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে সরকারি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের প্রতি এই স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জেলা শহরের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন পূর্বনির্ধারিত জায়গাতেই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন আন্দোলনকারীরা।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে নিজেদের এই যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় জনসাধারণ বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন ও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকার ঘোষণা দেন। শান্তিপূর্ণ এই মানববন্ধন কর্মসূচি সমাপ্ত হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে শরীয়তপুর জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নীতিনির্ধারক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। ওই বছরের ১২ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) একটি খসড়া আইন তৈরির জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সুনির্দিষ্ট মতামত সংগ্রহ করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি কাঠামো প্রণয়নের কাজ বেশ কিছুটা এগিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি তারিখে এই খসড়া আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয় এবং ওই বছরের ১২ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৩ চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
আইন অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় একই বছরের ১৩ নভেম্বর তারিখে প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, প্রশাসনিকভাবে শুরুর দিকে এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর’ নামটি নির্ধারিত ছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা