
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতীরবর্তী অঞ্চলে ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণের সরকারি দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছে মৎস্য অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল। এই আকস্মিক ও সহিংস আক্রমণে সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট সাতজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
আহত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করে জানা গেছে যে, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা হলেন জেলা মৎস্য দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার বিশ্বাস, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাবিলদার আবদুর রহিম, একই বাহিনীর সিপাহি সাকিব হাসান ও সেলিম মিয়া।
এছাড়া এই হামলায় শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন জলযানের চালক বা নৌকার মাঝি মো. রেজাউল করিম, মো. মোস্তফা সিকদার এবং মৎস্য কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত মো. রমজান আলী খলিফা।
ঘটনার পরবর্তী দিন মঙ্গলবার সকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার নিজস্ব কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে পুরো সহিংসতার ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কর্মকর্তা এনামুল হক স্পষ্ট করেন যে, জাতীয়ভাবে ইলিশ মাছ রক্ষার যে চলমান নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, তারই একটি অংশ হিসেবে তাদের দল সুগন্ধা নদীতে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে ভিত্তিস্থানে ফিরছিল।
তিনি আরও যোগ করেন যে, ঠিক সেই মুহূর্তে ফেরার পথেই তাদের এই সুনির্দিষ্ট দলের ওপর সংঘবদ্ধভাবে চড়াও হয় দুর্বৃত্তরা। যার ফলে মৎস্য বিভাগের নিবেদিতপ্রাণ এই সাতজন কর্মী বিভিন্ন মাত্রায় শারীরিক আঘাত পান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিজ বক্তব্যে আরও গুরুতর কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি জানান যে, আক্রমণকারীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং জলযানের চালক ও মাঝিদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং রামদা উঁচিয়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
উগ্র হামলাকারীরা ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এ ধরনের সরকারি অভিযানে অংশ না নেয়, সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে। শুধু তাই নয়, মাঝিদের জনসমক্ষে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করা হয়, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতে কোনোভাবেই মৎস্য বিভাগকে সহযোগিতা করার সাহস না পান।
এদিকে এই চাঞ্চল্যকর সহিংসতার আইনগত অবস্থা সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান যে, এই ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের কাছে নির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ কিংবা অন্য কারও নিকট থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশি তদন্ত শুরু হবে এবং তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সব আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা