
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলার নির্দিষ্ট একটি গ্রাম থেকে তাঁকে থানায় নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে গভীর রাতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। এরপর আজ মঙ্গলবার সকালে সেই নিয়মিত মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি আইডি থেকে ধর্ম অবমাননার এই উসকানিমূলক পোস্টটি প্রকাশ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠলে গতকাল দুপুরে সংশ্লিষ্ট গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তি তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের একটি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তিনি পূর্বে পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফারুক আহমদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, ওই ব্যক্তি পূর্বে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে চাকরি করতেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা বরখাস্ত করা হয়েছিল।
এদিকে আটকের পর পুলিশ যখন ওই ব্যক্তিকে নৌকায় তুলে থানায় নিয়ে যাচ্ছিল, তখন পেছন থেকে কিছু কিশোর ও তরুণ ঢিল ছুড়তে শুরু করে এবং তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। তবে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তাঁকে দ্রুত নিরাপদে থানায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
পুলিশের কাছে আটকের পূর্বে ওই যুবক নিজেই একটি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছিলেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, যে নাম এবং ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে এই অবমাননাকর পোস্টটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল। নিজের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে একটি ফেক আইডি খুলে এই সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি পূর্বেই প্রতিকার চেয়ে জিডিতে বিষয়টি নথিবদ্ধ করেছিলেন।
এদিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উদ্যোগ নেন এলাকার রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুনাব আলী এবং মেহেদী হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দ্রুত ওই গ্রামে ছুটে যান এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। সে সময় তাঁরা সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার বিশেষ অনুরোধ জানান এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।