
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
আর্কাইভের বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও এবং দৃশ্য ব্যবহার করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিল্পপতি গৌতম আদানির পারস্পরিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আলোচিত এই তথ্যচিত্রটিতে। এই প্রামাণ্যচিত্রটির আখ্যানভাগের সূচনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য গুজরাট থেকে, যা মূলত নরেন্দ্র মোদি ও গৌতম আদানি উভয়েরই জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত।
তথ্যচিত্রটিতে মূলধারার সমালোচকদের তীব্র আপত্তির বিষয়গুলো তুলে ধরে বলা হয়েছে যে, ২০১৯ সালে দেশের মোট ছয়টি বিমানবন্দর পরিচালনার ইজারা ও দায়িত্ব লাভ করেছিল আদানিগোষ্ঠী। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচকদের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অসদুদ্দেশ্যেই সে সময় পরিকল্পিতভাবে সরকারি নানা বিধিমালার নিয়মনীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সমালোচকদের এই সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশের প্রচলিত সকল বিধিবিধান ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা স্বজনপোষণ করা হয়নি।
এদিকে তথ্যচিত্রের নির্মাতা ভাটিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই মানহানি ও আইনি মামলায় তাঁর কাছে সুনির্দিষ্টভাবে ৫০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে, যার ভারতীয় মুদ্রার সমপরিমাণ হলো প্রায় ৫২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ভাটিয়া অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জোরালো দাবি করেছেন যে, ‘সত্য আমার পক্ষে রয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন যে, নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি ভারতের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজেস এবং দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার একেবারে শীর্ষ পর্যায়ে যথেষ্ট অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর মহারাষ্ট্র রাজ্যের স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে নির্মাতা ভাটিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, যেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে উক্ত তথ্যচিত্রটি সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম বা শুনানি আগামী বছরের অর্থাৎ জানুয়ারির যেকোনো সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে নির্ধারিত রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা