
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
কম্বোডিয়ায় দুই তরুণকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে একটি প্রতারণা কেন্দ্রে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের প্রতারণার শিকার হয়ে ওই তরুণরা চরম নির্যাতনের মুখে পড়েছিলেন।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, কম্বোডিয়া মাটিতে পা রাখার সঙ্গেসঙ্গেই ওই দুই যুবকের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁদেরকে পাঁচ হাজার ডলারের বিনিময়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়, যেখানে তাঁদের বলপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হতো।
নির্ধারিত কাজ করতে অপরাগতা প্রকাশ করলে কিংবা সামান্য ভুল হলেই তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হতো। ওই বন্দিদশা থেকে পালিয়ে আসার বা কোনো রকম নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে আসার বিন্দুমাত্র সুযোগও তাঁদের হাতে ছিল না।
দীর্ঘদিন সেখানে অবরুদ্ধ থাকার পর কোনো এক উপায়ে ওই দুই তরুণ তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তখন সেই স্ক্যাম সেন্টার থেকে তাঁদের মুক্তির শর্ত হিসেবে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ পরিশোধের দাবি জানানো হয়।
সন্তানদের জীবন বাঁচাতে এবং তাঁদের মুক্ত করে আনতে পরিবারের সদস্যরা নানাভাবে ওই দাবীকৃত অর্থের যোগাড় করেন। কিন্তু মুক্তিলাভের পরও তাঁদের দুর্ভাগ্যের অবসান ঘটেনি, বরং পাচারকারীরা পুনরায় তাঁদের নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেয়।
এমনকি স্বদেশে ফিরে আসার জন্য যে বিমান টিকিটের প্রয়োজন ছিল, তার খরচও ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকেই জোরপূর্বক আদায় করা হয়েছিল। এই সম্পূর্ণ ঘটনার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে অবশেষে দুজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা