
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
স্বজনদের অপেক্ষার প্রহর ভেঙে প্রায় এক যুগ পর চাঞ্চল্যকর একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তকে জালে তুলতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিগত এগারো বছর ধরে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে আত্মগোপনে থাকা ওই পলাতক আসামিকে শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ পাকড়াও করতে পেরেছে। গত মঙ্গলবার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁকে সরাসরি আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং সেখান থেকে বিচারকের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘ এই আইনি লড়াই ও অনুসন্ধানের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ভুক্তভোগী তরুণের জন্মদাতা পিতা তথা এই মামলার মূল বাদী সালাম হাওলাদার অত্যন্ত ক্ষোভ ও বেদনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে এলাকার একক নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য কায়েমের নোংরা দ্বন্দ্বের বলি বানানো হয়েছিল তাঁর আদরের সন্তানকে।
শোকসন্তপ্ত এই পিতা আরও বর্ণনা করেন যে, কুখ্যাত মনজু ও তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী কোনো ধরনের অনুকম্পা ছাড়াই প্রকাশ্যে দিবালোকে অত্যন্ত নির্মম কায়দায় তাঁর ছেলেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং বিভৎসভাবে পিটিয়ে দুনিয়া থেকে চিরতরে সরিয়ে দিয়েছিল। অপরাধীদের এমন পাশবিক আচরণ আজও তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সন্তান হারানোর ব্যথায় কাতর এই বৃদ্ধ পিতা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন যে, তিনি আর কালক্ষেপণ দেখতে চান না, বরং অতি দ্রুত এই রোমহর্ষক ও নৃশংস মামলার কঠোর বিচারকার্য সম্পন্ন করা হোক। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত মনজুর সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ কার্যকর করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি বিনীত অথচ দৃঢ় অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই চাঞ্চল্যকর আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। কাজিরহাট থানার চৌকস ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির নিপুণ প্রয়োগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেই মূলত এই বহুকাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা মূল অভিযুক্ত মনজুকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারে পুলিশ সফল হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা