
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট দুই হাজার একাত্তর জন নারী ও কন্যাশিশু নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।
শারীরিক সহিংসতার পাশাপাশি নির্মম হত্যাকাрীর ঘটনাও আতঙ্কজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু জুলাই মাসেই মোট পঞ্চাশজনকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে উনচল্লিশ জন নারী এবং এগারোজন কন্যাশিশু রয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে সেপ্টেম্বর মাসেও হত্যাকাণ্ডের এই ধারা অব্যাহত থাকে, যেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে বায়ান্নতে পৌঁছায়। এর মধ্যে উনচল্লিশ জন নারী এবং তেরোজন কন্যাশিশু প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের বাইরেও প্রতি মাসে সংঘটিত রহস্যজনক মৃত্যু এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার ঘটনাগুলো নারীদের মারাত্মক মানসিক ও সামাজিক সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া তরুণী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত সাইবার বুলিং ও নানা ধরনের উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে জুন মাসেই একা উনচল্লিশ জন ছাত্রী ও শিশু এ ধরনের হয়রানির ভুক্তভোগী হয়েছেন।
হয়রানির শিকার হওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে সতেরোজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাশিশু, যা অভিভাবকদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, কন্যাশিশুদের সমাজের অভিশাপ বাল্যবিবাহ থেকে সুরক্ষা দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এতসব তৎপরতার পরেও শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসেই একটি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হওয়ার এবং আরও সাতটি বাল্যবিবাহ দেওয়ার জোরালো প্রচেষ্টা রেকর্ড করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা