
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
আসছে পহেলা নভেম্বর থেকে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য উন্মুক্ত হতে চলেছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। আগামী বছরের পনেরো মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা এই দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন এবং সেখানে রাতযাপনের সুযোগ পাবেন। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের ভ্রমণের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বীপে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক প্রতিটি পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে একশ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি পরিশোধ করতে হবে। সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পূর্বে দশটি জরুরি বিষয় জেনে নেওয়া অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ভ্রমণের দিন এবং তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর ভ্রমণার্থীদের প্রথম কাজ হবে নির্ধারিত জাহাজের টিকিট সংগ্রহ করা। ভ্রমণের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা পাকা করে পূর্বেই টিকিট সংগ্রহ করে ফেলা উচিত। এর ফলে শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা এড়ানো সম্ভব হয় এবং টিকিট না পাওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যায়।
কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিন রুটে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ওয়ান, এমভি বারো আউলিয়া এবং কেয়ারি সিন্দাবাদসহ চলতি পর্যটন মৌসুমে প্রায় দশটি জলযান চলাচল করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগের মৌসুমে এই একই নৌপথে নিয়মিতভাবে সাতটি জলযান চলাচল করেছিল। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার পূর্বে বর্তমান মৌসুমে কোন কোন জলযান চলাচলের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছে তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া আবশ্যক।
অনুমতিপ্রাপ্ত জলযানগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনেই টিকিট কেটে নেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জলযান পরিচালনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্দিষ্ট গ্রাহকসেবা নম্বরে সরাসরি ফোন কল করেও টিকিট বুকিং দেওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যম থেকেও এই টিকিট সংগ্রহ করা যায়। যাতায়াতের জন্য যাওয়া এবং ফেরার টিকিট আলাদাভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও, ভ্রমণের নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত থাকলে উভয় পথের টিকিট একসাথে সংগ্রহ করা অধিকতর সুবিধাজনক।
সেন্ট মার্টিনগামী জলযানগুলোতে সাধারণ আসন, বিজনেস চেয়ার, মোজার্ট চেয়ার, আরামদায়ক বিছানা এবং কেবিনসহ বিভিন্ন ধরনের আসন বিন্যাস রয়েছে। এসব আসন এবং প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে যাওয়া-আসার টিকিটের মূল্য তিন হাজার ছয়শ টাকা থেকে শুরু করে কুড়ি হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। টিকিট ক্রয়ের পূর্বে আসনের ক্যাটাগরি, ভাড়ার হার এবং টিকেটের লভ্যতা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এবারও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যেতে হলে ভ্রমণকারীদের আবশ্যিকভাবে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে। বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড সার্বিকভাবে এই পুরো বিষয়টি তদারকি করে থাকে। তবে এই ট্রাভেল পাস পাওয়ার জন্য পর্যটকদের আলাদাভাবে কোনো ধরনের নিবন্ধনের ঝামেলায় পড়তে হবে না। জলযানের টিকিট বুকিংয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় যাবতীয় প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট জলযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিজে থেকেই সম্পন্ন করবে।
জলযানের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পরপরই সেন্ট মার্টিনে থাকার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা আগে থেকেই পাকা করে রাখা দরকার। এই দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য দুইশ ত্রিশটিরও বেশি হোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ রয়েছে। তবে দ্বীপে সরাসরি পৌঁছে নিজের পছন্দমতো আবাসন খুঁজতে গেলে অনাবশ্যকভাবে মূল্যবান সময় নষ্ট হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের বিড়ম্বনা এড়াতে ভ্রমণের আগে রিসোর্ট বা কটেজ বুকিং করে রাখা সবসময়ই ভালো।
সেন্ট মার্টিনের রিসোর্টগুলোর ভাড়ার হার সাধারণত আবাসনের ধরন এবং প্রাপ্ত সুবিধার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। প্রিমিয়াম মানের হোটেল ও রিসোর্টে প্রতি রাতের জন্য আট থেকে বারো হাজার টাকা ভাড়া হতে পারে, স্ট্যান্ডার্ড মানের হোটেল ও রিসোর্টে চার হাজার পাঁচশ থেকে সাত হাজার টাকা এবং ইকোনমি ক্যাটাগরির হোটেল ও রিসোর্টে দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া হতে পারে। ছুটির দিনগুলোতে এবং পর্যটনের ভরা মৌসুমে এই ভাড়া সাধারণত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, আবার অনেক সময় কিছু রিসোর্টে বিশেষ ছাড়ও দেওয়া হয়ে থাকে। বুকিং চূড়ান্ত করার পূর্বে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সরাসরি যোগাযোগ করে ভাড়া ও শর্তাবলী নিশ্চিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে যেতে চাইলে প্রথমে প্রধানত কক্সবাজার শহরে উপস্থিত হতে হবে। সেখানকার নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকেই মূলত সকালের দিকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে জলযানগুলো ছেড়ে যায়। এরপর দ্বীপ থেকে দুপুরের পর বা বিকেলের দিকে জলযানগুলো পুনরায় কক্সবাজারের পথে রওনা দেয়। তাই যাত্রার প্রাক্কালে জলযান ছাড়ার সঠিক সময় এবং টিকিটে মুদ্রিত সব নির্দেশিকা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
দ্বীপে যাতায়াতের সময় প্রত্যেক ভ্রমণকারীকে অবশ্যই নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। সেন্ট মার্টিনের অনন্য পরিবেশ ও বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সব ধরনের পলিথিন এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী বর্জন করতে হবে। এ ছাড়া সমুদ্রসৈকতে রাতের বেলা অতিরিক্ত আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো, বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা এবং সৈকতের বালুচরে যেকোনো ধরনের মোটরচালিত যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকা বাধ্যতামূলক।
এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ওয়ান ও এমভি বারো আউলিয়া জলযানের যোগাযোগের জন্য ০১৬১০-০৫১০০৫ এবং ০১৯৬৭-৬৭০৭০৭ নম্বরে ফোন করা যাবে। এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের ওয়েবসাইট হলো karnafulyexpress.com.bd, এমভি বারো আউলিয়ার ওয়েবসাইট baroawlia.com.bd এবং বে-ক্রুজার ওয়ানের ওয়েবসাইট bayone.com.bd। এ ছাড়া কেয়ারি সিন্দাবাদ জলযানের যোগাযোগের জন্য ০১৮৪৭-৩২৩৭০৫-০৬ নম্বর এবং kearitourismbd.com ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।