
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
আরবি শব্দ ‘সালাম’ মূলত শান্তি, কল্যাণ এবং দোয়ার একনিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এই সুন্দর অভিবাদন বিনিময়ের তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অতুলনীয়।
পরস্পরের মাঝে নিয়মিত সালাম আদান-প্রদান করার মাধ্যমে মানুষের মনে একে অপরের প্রতি যথাযথ সম্মান এবং শ্রদ্ধা বোধ জাগ্রত হয়। এর ফলে মানুষের অন্তরের গভีর থেকে যাবতীয় হিংসা ও বিদ্বেষ চিরতরে দূর হয়ে যায়।
মানবসমাজে এই সালামের সংস্কৃতির চর্চা মানুষে মানুষে হৃদ্যতা ও ভালোবাসার এক মজবুত এবং সুদৃঢ় সেতুবন্ধ তৈরি করে। ইসলামের সোনালী শিক্ষায় প্রাত্যহিক জীবনে এর গুরুত্বকে সবসময় সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া হয়েছে।
হাদিস শরিফের বিভিন্ন বর্ণনায় সালামের এই অপরিহার্য গুরুত্ব ও গভীর তাৎপর্য অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা পাঠ করলে এর মাহাত্ম্য সহজে উপলব্ধি করা যায়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি বিশেষ হাদিসে মহানবী (সা.) উম্মতের উদ্দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তা প্রদান করেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইমানদার হতে পারবে না, ততক্ষণ সে কোনোভাবেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন যে, নিজেদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা পুরোপুরি গড়ে না ওঠা পর্যন্ত কেউ প্রকৃত ইমানদার হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
এরপর নবীজি সাহাবিদের নিজেই প্রশ্ন করেন যে, তারা এমন একটি বিশেষ কাজের কথা জানতে চান কি না, যা করলে সবার মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।
উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ থেকেই বলে দেন যে, সেই কাজটি হলো নিজেদের সমাজে এবং পরিমণ্ডলে বেশি বেশি সালামের প্রচার ও প্রসার ঘটানো। (রিয়াজুস সালেহিন: ৮৫২)
সূত্র: আজকের পত্রিকা