
নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
কম্পিউটার সায়েন্স বা সিএসই বিষয়ে পড়াশোনা না করেও নিজের পছন্দমতো মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য প্রথমে ডব্লিউথ্রি স্কুলস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিনা মূল্যে কোডিংয়ের প্রাথমিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করা যেতে পারে। এই ওয়েবসাইটটিতে এইচটিএমএল, সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্টের অত্যন্ত সহজ পাঠ উপলব্ধ রয়েছে। যেখানে এইচটিএমএল দিয়ে একটি ওয়েবপেজের মূল কাঠামো দাঁড় করানো হয়, সিএসএস দিয়ে তার আকর্ষণীয় নকশা করা হয় এবং জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ ফিচার যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে রিঅ্যাক্ট নেটিভ ও এক্সপো ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ বানাতে গেলে এই জাভাস্ক্রিপ্ট ভাষাই দারুণভাবে কাজে লাগবে।
পুরো বিষয়টি একবারে বা একসঙ্গে শেখার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ভেরিয়েবল, ডেটার ধরন, ইফ/এলস শর্ত, লুপ, ফাংশন এবং অ্যারে দিয়ে শেখা শুরু করা উচিত। প্ল্যাটফর্মে দেওয়া ছোট ছোট উদাহরণগুলো নিজে নিজে কোড রান করে পরীক্ষা করে দেখা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন নিয়ম করে সামান্য কিছু সময় ব্যয় করলেই কোডিংয়ের জটিল কাজগুলো ধীরে ধীরে সহজ হয়ে উঠবে। কোডিং শেখার সময় কোনো বিশেষ জায়গায় কঠিন ঠেকলে বা আটকে গেলে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে সহজ বাংলায় সেই বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে বলা যেতে পারে।
বর্তমানে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, ক্লড কিংবা ডিপসিকের মতো আধুনিক এআই টুল ব্যবহার করে খুব সহজেই যেকোনো অ্যাপের প্রয়োজনীয় কোড তৈরি করা সম্ভব। তবে কোড জেনারেট করানোর আগে নিজের অ্যাপের পরিকল্পনা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে লিখে বা গুছিয়ে নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর স্কলারশিপ বা বৃত্তির অ্যাপ তৈরি করতে চান, তবে সেখানে কী কী থাকবে তা ঠিক করতে হবে। যেমন—ওই অ্যাপে থাকতে পারে দেশভিত্তিক বৃত্তির তালিকা, আবেদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, আবেদনের শেষ তারিখ, সার্চ করার অপশন এবং সরাসরি আবেদনের অফিশিয়াল লিংক।
অ্যাপ তৈরির শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আগে পুরো প্রজেক্টের নকশা বা ডিজাইন এবং কাঙ্ক্ষিত ফিচারের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে দিতে বলতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে একটি একটি করে নির্দিষ্ট ফিচারের কোড লিখে দিতে বলা এবং সেই কোডগুলো সফটওয়্যারের কোথায় এবং কীভাবে বসাতে হবে তা পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া দরকার। কাজ করার সময় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে, ত্রুটির বার্তা বা এরর মেসেজ এবং সংশ্লিষ্ট কোডটি এআই-এর কাছে দিয়ে দ্রুত তার সমাধান চেয়ে নিতে হবে। তবে যেকোনো কোড কখনো অন্ধভাবে কপি-পেস্ট করে ব্যবহার করা উচিত নয়, বরং কোডটি ভেতরের কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী কীভাবে কাজ করছে তা বোঝার চেষ্টা করা বাঞ্ছনীয়, যা পরবর্তীতে নিজের পছন্দমতো অ্যাপ পরিবর্তন করা বেশ সহজ করে তুলবে।
কোডিংয়ের এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য ভিজুয়াল স্টুডিও কোড অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাধ্যম, যা একটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যের কোড এডিটর হিসেবে কাজ করে। এই বিশেষ সফটওয়্যারটির সাহায্যে সহজেই নতুন ফাইল তৈরি করা, কোডের বিভিন্ন অংশ সম্পাদনা করা এবং কোডের ভুল বা বাগ খুঁজে বের করে তা সংশোধন করা যায়। কম্পিউটারে ভিএস কোড সফলভাবে ইনস্টল করার পর একটি নতুন প্রজেক্টের ফোল্ডার তৈরি করতে হবে। এরপর এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে ফোল্ডারে প্রয়োজনীয় ফাইল ও কোডগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিতে হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা