ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধে গাইবান্ধায় জেলেদের সচেতনতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধে গাইবান্ধায় জেলেদের সচেতনতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের জলজ সম্পদ ও মাছ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বৈদ্যুতিক উপায়ে মাছ ধরা এবং নিষিদ্ধ চীনা জাল ব্যবহারের কারণে নদীতীরের জলজ বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক ধ্বংসের মুখে পড়ছে। গাইবান্ধা বন্ধুসভা আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানত মৎস্যনিধন রোধ এবং জেলেদের মধ্যে সচেতনতা জাগানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা, মৎস্যভাণ্ডারের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জেলে সমাজের দায়বদ্ধতার দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনায় উঠে আসে।

ক্ষতিকর কারেন্ট ও চীনা জালের ব্যবহার এবং ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকারের ফলে জলজ প্রাণীকুল ও মাছের পোনা কীভাবে ধ্বংস হচ্ছে, তা সভায় তুলে ধরা হয়।

বক্তারা সতর্ক করে জানান, নদনদীতে বেআইনি ও ধ্বংসাত্মক পন্থায় মৎস্য আহরণ বন্ধ না করা গেলে মাছের বংশবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে, তেমনি অন্যদিকে মৎস্যজীবীদের জীবিকাও মারাত্মক সংকটের সম্মুখীন হবে।

এ সময় সবাইকে প্রচলিত মৎস্য আইন কঠোরভাবে মেনে চলা, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার পরিহার করা এবং নদীর পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

নদনদী কেবল মাছের যোগানদাতা নয়, বরং এই অববাহিকার মানুষের জীবনযাত্রা ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম।

জলজ সম্পদ ও নদীর মাছ বাঁচাতে শুধু মৎস্যজীবীরাই নন, বরং সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন আলোচকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গাইবান্ধা বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসান উল্লেখ করেন যে, নদনদী ও জলজ জীব আমাদের দেশের অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য।

তিনি আরও বলেন, বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ ধরা এবং চীনা জালের অবাধ ব্যবহার আমাদের নদীতীরবর্তী পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক।

প্রজনন ঋতুতে সরকারি আইন কঠোরভাবে পালন, অবৈধ জালের বিস্তার রোধ এবং নদী দূষণ বন্ধ করতে সকলকে সচেতন হওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

সবার সম্মিলিত সক্রিয় প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল নদীর মাছ এবং জলজ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসান ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক তাওহিদা খন্দকার।

এছাড়াও উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক রঞ্জু খন্দকার, সামাজিক উন্নয়ন পদক্ষেপ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এম সাদ্দাম হোসেন এবং সংবাদকর্মী শাহাবুল শাহীন।

গাইবান্ধা বন্ধুসভার এই মহতী উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে জলজ সম্পদ ও নদী রক্ষায় জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়কে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক নানা কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন