ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সংঘাতের শঙ্কা: ৯০ দিনের মজুত নিশ্চিত করছে মার্কিন পেন্টাগন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
সংঘাতের শঙ্কা: ৯০ দিনের মজুত নিশ্চিত করছে মার্কিন পেন্টাগন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও বড় ধরনের সংঘাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে নতুন এক কঠোর কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পেন্টাগন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বেসামরিক খাতের ওপর থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে তোলা, যাতে যেকোনো সংকটে তারা নিজস্ব সক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে।

বর্তমান সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অন্যতম প্রধান একটি দুশ্চিন্তার বিষয় হলো বেসামরিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর তাদের সামরিক শাখাগুলোর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীলতা। অস্ত্র তৈরি, যোগাযোগ রক্ষা এবং বিভিন্ন রসদ ব্যবস্থাপনার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হয় এই সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর ভর করে।

এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে 'ফোর্ট্রেস' নামক একটি বিশেষ উদ্যোগের আওতাধীন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোতে বহনযোগ্য ক্ষুদ্র পারমাণবিক চুল্লি, বড় আকারের আধুনিক ব্যাটারি সংরক্ষণ ইউনিট এবং নিজস্ব মাইক্রোগ্রিড গড়ে তোলা হবে। এর ফলে বাহ্যিক কোনো কারণে বেসামরিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলেও এসব গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই নিরবচ্ছিন্নভাবে সব কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।

এ বিষয়ে পেন্টাগনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পার্নেল মন্তব্য করেছেন যে, মিশনের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে অবশ্যই সম্পূর্ণ স্বাধীন, সর্বোচ্চ সুরক্ষিত এবং বিকল্প ব্যবস্থা সংবলিত হতে হবে।

যদিও পেন্টাগন এর আগেই দেশের বড় বড় সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বেসামরিক বিদ্যুৎ কাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিল, তবুও সম্প্রতি নির্ধারিত নতুন ৯০ দিনের আত্মনির্ভরশীলতার মানদণ্ড কেবল বিদ্যুৎ খাতের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। এর পরিধি আরও বিস্তৃত করে সামরিক কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অন্য সব মৌলিক সেবাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভবিষ্যতের যেকোনো সর্বগ্রাসী যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ কার্যক্রমে মারাত্মক রকমের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাকেও এখন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পেন্টাগন। কারণ মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত সমরাস্ত্র, বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল উপকরণের একটা বিশাল অংশই আসে বহির্বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভর করে।

এই প্রসঙ্গে পার্নেল আরও সতর্ক করে বলেছেন যে, আগামী দিনের সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক সংঘাত হয়তো কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা যুগপৎভাবে একাধিক রণাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এই ধরনের বড় যুদ্ধের পেছনের বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে বাধ্য।

এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্যই মূলত ফোর্ট্রেস প্রকল্পের আওতায় গোলাবারুদ, জ্বালানি তেল, দুষ্প্রাপ্য খনিজ পদার্থ, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, নানা যন্ত্রাংশের খুচরা অংশ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর একটি বিরাট কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যকার প্রধান সরবরাহ পথগুলো যদি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা যুদ্ধকালীন জরুরি চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকারীরা নতুন করে সামগ্রী সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই পূর্বমজুতকৃত উপকরণগুলোই সামরিক অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহায়তা জোগাবে।

যুদ্ধের বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কোনো উপকরণ ঠিক কত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন করে সেই ঘাটতি পূরণ করতে ঠিক কতটুকু সময় প্রয়োজন হচ্ছে, এই দুটি বিষয়ের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই মূলত এই মজুতকরণের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।

পাশাপাশি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সার্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি এমন গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলোর ক্ষেত্রে অন্তত দুটি করে যোগ্য ও বিকল্প সরবরাহ কিংবা উৎপাদনের পথ নিশ্চিত করার কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হঠাৎ করে যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট কারখানা, কোনো বিশেষ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা সামগ্রিক শিল্প সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হয়েও যায়, তবুও সামরিক কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় বা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বহুলাংশে কমে যাবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, তদন্তে পুলিশ

নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, তদন্তে পুলিশ