ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চড়া দামেও মিলছে না গলদার পোনা, সংকটে বাগেরহাটের চিংড়ি শিল্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 9, 2026 ইং
চড়া দামেও মিলছে না গলদার পোনা, সংকটে বাগেরহাটের চিংড়ি শিল্প ছবির ক্যাপশন: চড়া দামেও মিলছে না গলদার পোনা, সংকটে বাগেরহাটের চিংড়ি শিল্প
ad728

বাগেরহাটসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গলদা চিংড়ির রেণু (পোনা) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় ১০ শতাংশেরও কম পোনা পাওয়ায় চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ফলে গলদা চিংড়ির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি সহযোগিতা দাবি করেছেন চাষি ও সংশ্লিষ্টরা।

'সাদা সোনা'খ্যাত গলদা ও বাগদা চিংড়ি উৎপাদনের অন্যতম জেলা বাগেরহাট। কিন্তু মানসম্মত গলদা পোনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন করতে না পেরে হতাশ চাষিরা। তাদের দাবি, মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত পোনা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাগেরহাটে ৫৪ হাজার ৮৪৮টি গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে বছরে প্রায় ২০ হাজার ৩৪৫ মেট্রিক টন গলদা উৎপাদিত হয়। অথচ জেলার বার্ষিক চাহিদা ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ রেণু হলেও বর্তমানে পাঁচটি হ্যাচারি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি রেণু, যা মোট চাহিদার প্রায় ৮ শতাংশ।

ফকিরহাট উপজেলার মৌভোগ এলাকার চাষি দীপক চৌধুরী জানান, গত বছর যেখানে প্রতি হাজার রেণুর দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, সেখানে এবার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। তবুও পর্যাপ্ত রেণু পাওয়া যাচ্ছে না। ১০ বিঘার ঘেরে প্রয়োজনীয় রেণুর পরিবর্তে তিনি মাত্র ৪ হাজার রেণু ছাড়তে পেরেছেন। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

একই উপজেলার চাষি আহাদ শেখ বলেন, ৪০ বিঘা ঘেরে তার প্রয়োজন ছিল দেড় লাখ রেণু, কিন্তু তিনি সংগ্রহ করতে পেরেছেন মাত্র ৩৭ হাজার। তার অভিযোগ, টাকা থাকলেও বাজারে চাহিদামতো রেণু নেই। নদী থেকে রেণু আহরণ বন্ধ করা হলেও পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি চাষিরা বড় সংকটে পড়েছেন।

ফকিরহাটের রেণু আড়তদার সালাম শেখ বলেন, এলাকায় প্রায় ৬০টি রেণুর আড়ত রয়েছে। প্রতিদিন শত শত চাষি রেণু কিনতে এলেও অধিকাংশকেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। হ্যাচারি থেকে যে পরিমাণ রেণু পাওয়া যায়, তা মোট চাহিদার মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, আগে চাহিদার বড় অংশ চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ভোলা ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন নদী ও উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগৃহীত রেণু এবং ভারত থেকে আসা রেণুর মাধ্যমে পূরণ হতো। কিন্তু নদী-সমুদ্র থেকে রেণু আহরণ এবং ভারতীয় রেণুর ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বর্তমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

চাষিদের দাবি, দ্রুত মানসম্মত গলদা পোনা উৎপাদন বাড়াতে নতুন হ্যাচারি স্থাপন, বিদ্যমান হ্যাচারির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে বাগেরহাটের রফতানিমুখী চিংড়ি শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
স্বর্ণের দামে আবারও বড় পতন, ভরিতে কমলো ৬৫৯০ টাকা

স্বর্ণের দামে আবারও বড় পতন, ভরিতে কমলো ৬৫৯০ টাকা