নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
খুলনা নগরীর রায়েরমহল এলাকার বাসিন্দা নাছিমা হাসান অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বাহাদুর নামের এক ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
নাছিমা হাসান জানান, তাঁর স্বামী ইমাম হাসান বাচ্চু জীবিত থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ৮ মার্চ বটিয়াঘাটা উপজেলার রাঙ্গেমারী গ্রামে ১৪ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং আরসিসি ঢালাই দিয়ে দোকান ঘর স্থাপন করা হয়। কিন্তু গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাহাদুর একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে ওই সম্পত্তির একটি অংশ জোরপূর্বক আত্মসাতের পাঁয়তারা শুরু করেন।
একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর গত ৫ অক্টোবর বাহাদুর ওই জমি জবরদখল করেন বলে দাবি করেন নাছিমা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রতিকার চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অগ্রক্রয় মামলা দায়ের করেন। আদালত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত বাহাদুর তা লঙ্ঘন করেন।
আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গত ১৩ অক্টোবর বাহাদুর তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে জানান নাছিমা। এ ঘটনায় তিনি ওই দিনই অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন, তবে বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে বটিয়াঘাটার সাচিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা বিভাস গোলদারও বাহাদুরের বিরুদ্ধে অনুরূপ আরেকটি অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তিনি জানান, চক্রাখালী বাজারে তাঁর নিজস্ব পৈতৃক জমিতে দোকান ঘর নির্মাণ করে সেগুলো তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অব্যবহিত পরে বাহাদুর তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ওই বাজারের একটি দোকান ভাড়া নেন। কিন্তু মাসকয়েক অতিবাহিত হওয়ার পর বাহাদুর দাবি করতে শুরু করেন যে, ভাড়াসূত্রে দখল করা ওই দোকানগুলো আসলে তাঁর নিজের এবং এ বিষয়ে তাঁর কাছে বৈধ দলিলও রয়েছে।
ভবিষ্যতে বড় কোনো ঝামেলা বা আইনি জটিলতা এড়াতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে তিনি কোনো ধরনের মামলা-মোকদ্দমায় জড়াতে চাননি বলে গণমাধ্যমকে জানান বিভাস গোলদার।
Daily Diner Alo