ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পিপিপির আওতায় চালু হচ্ছে ১৯ বছর বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
পিপিপির আওতায় চালু হচ্ছে ১৯ বছর বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোকিল টেক্সটাইল ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

প্রায় দুই যুগ ধরে তালাবদ্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহাসিক কোকিল টেক্সটাইল মিলসকে জনস্বার্থে পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কাঠামোর আওতায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

সোমবার রাজধানী ঢাকার সচিবালয় প্রাঙ্গণে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্দেশনায় ও পরিচালনায় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠকে 'ডেভেলপমেন্ট অব কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া' শীর্ষক বিশেষ প্রকল্পটিকে পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য নীতিনির্ধারক মহলের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন বা বিটিএমসির তথ্যানুযায়ী, এই কলকারখানাটির অধীনে প্রায় ১০ দশমিক ৫৮ একর পরিমাণের মূল্যবান জমিও রয়েছে।

প্রণীত প্রস্তাবের রূপরেখা অনুযায়ী, নির্বাচিত বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে কারখানা স্থাপন, এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্বিক পরিচালনা সম্পন্ন করবে।

এর বিপরীতে বাংলাদেশ সরকার কেবল নির্ধারিত জমির বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে ইজারার বা ভাড়ার অর্থ বুঝে পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ক্ষেত্রে জমির চূড়ান্ত মালিকানা সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিজের হাতেই বহাল থাকবে এবং কোনো অবস্থাতেই বেসরকারি বিনিয়োগকারী পক্ষ উক্ত ভূমি ব্যাংক বা অন্য কোথাও বন্ধক রাখতে পারবে না।

নির্ধারিত এই নতুন শিল্পপ্রকল্পে মূলত বস্ত্র খাত, তৈরি পোশাক শিল্প এবং পাটভিত্তিক নানা পণ্য উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোকিল টেক্সটাইল মিলসের গৌরবময় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনেরও আগের সময়কার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

বহু পূর্বে ১৯৬১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে প্যানোরামা কোম্পানি লিমিটেড নামে এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল।

পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রস্তুতি পেরিয়ে ১৯৬৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভিত্তিতে সুতা উৎপাদনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে সক্ষম হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে কারখানাটিকে রাষ্ট্রীয়করণ করা হয় এবং এর নতুন নামকরণ করা হয় কোকিল টেক্সটাইল মিলস।

এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০০৭ সালে সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে মিলটির উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছিল।

কিন্তু কারখানা চালুর ওই বছরেই শ্রমিকদের তরফ থেকে উত্থাপিত নানা দাবিদাওয়ার জেরে একই বছরের ১৬ অক্টোবর মিলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

কারখানাটি বন্ধ হওয়ার সেই দুঃসময়ে সেখানে সর্বমোট ২১০ জন শ্রমিক নিয়মিতভাবে কর্মরত ছিলেন এবং জীবিকা নির্বাহ করতেন।

অন্যদিকে, সোমবার অনুষ্ঠিত আরেকটি আলাদা বৈঠকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির তরফ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানির সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে।

কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড তথা কাফকো এবং সৌদি আরবের বিখ্যাত সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে মোট ৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার সংগ্রহ করা হবে।

এই বিপুল পরিমাণ সার আমদানির নানামুখী প্রক্রিয়ায় মোট ৩৬৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার আর্থিক ব্যয়বরাদ্দ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা কমিটি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ এনসিপির

শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ এনসিপির