নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
আয়ারল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পীদের জন্য চালু করা মাসিক ভাতার প্রকল্পটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়। সরকার নিয়োজিত গবেষণা সংস্থা ‘আলমা ইকোনমিকস’-এর পরিচালিত এই সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, এই খাতে বিনিয়োগকৃত প্রতি ১ ইউরোর বিপরীতে সমাজ এবং অর্থনীতিতে সামগ্রिकভাবে ১ দশমিক ৩৯ ইউরো সমপরিমাণ সুফল অর্জিত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে ৭২ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের এই পাইলট প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরোর সমপরিমাণ ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। শিল্পীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগটি তাই শুধু সাংস্কৃতিক অঙ্গনেই নয়, বরং বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে।
সমীক্ষার ফলাফল বিশ্লেಷণে দেখা যায়, নিয়মিত এই আর্থিক সহায়তার কারণে দেশটিতে শিল্পীদের সৃজনশীলতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের আর্থিক দুশ্চিন্তা হ্রাস পাওয়ার ফলে শিল্পীরা এখন আগের তুলনায় সপ্তাহে গড়ে চার ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় সরাসরি শিল্পচর্চায় ব্যয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।
জীবনধারণের তাগিদে শিল্পশিল্পীদের অপ্রাসঙ্গিক ও ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকার বাধ্যবাধকতা অনেকাংশে কমে গেছে। এর ফলে তাঁদের মানসিক চাপ এবং উদ্বেগও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে, যা তাঁদের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে।
এই প্রকল্প চালুর ফলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর থেকেও চাপ কমেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বেকারত্ব ভাতা কিংবা অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তার ওপর শিল্পীদের নির্ভরশীলতা এখন আগের তুলনায় বেশ কমে এসেছে।
মেনুথ ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানী জেনি ড্যাগ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এই মাসিক ভাতাটি এককভাবে একজন মানুষের সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য পর্যাপ্ত না হলেও এটি শিল্পীদের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে এই অর্থের মাধ্যমে শিল্পীরা উন্নতমানের প্রয়োজনীয় শিল্প সরঞ্জাম কেনার সুযোগ লাভ করেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
Daily Diner Alo