নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসে DLRMS প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করা নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন সরকারি অফিসে অবস্থান করে বিভিন্ন সেবা ও কাজের কথা বলে তিনি এই অর্থ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে DLRMS প্রকল্পের কাজের জন্য নূর মোহাম্মদ নালিতাবাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসে আসেন। দুই বছর মেয়াদি ওই প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হলেও তিনি পরবর্তী প্রায় আট বছর ধরে অর্থাৎ ২০২৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা ভূমি অফিসে অবস্থান করেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এ সময় তিনি সরকারি কম্পিউটারসহ অফিসের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে মানুষের ভূমিসংক্রান্ত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেন। সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা বা প্রশ্রয়েই তিনি দীর্ঘদিন সরকারি অফিসে বসে এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সরকারি সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে নূর মোহাম্মদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নালিতাবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুর রহমান বলেন, তিনি যোগদানের পর জানতে পারেন নূর মোহাম্মদের প্রকল্পের মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে, তবে কর্মচারী সংকটের কারণে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বের করে দেওয়া হয়নি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরও জানান, কার্যক্রম স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় তাকে অফিস ছাড়তে বলা হলে তিনি সময় চান এবং পরবর্তীতে ঢাকায় প্রশিক্ষণে থাকাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও তাকে অফিস থেকে বের করে দেন বলে তিনি জানতে পারেন। প্রশিক্ষণে থাকাকালীন বিভিন্ন অভিযোগের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন নূর মোহাম্মদ টাকা নিয়ে চলে গেছেন এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
Daily Diner Alo