নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
গত কিছুদিন আগে বেনিনের বিপক্ষে লিওনেল মেসির মাঠে নামার শেষ ম্যাচটি সম্পন্ন হওয়ার পর নিজের আগামীর পথচলা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন লিওনেল স্কালোনি। সেই সময় তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে তিনি দলের প্রধান ম্যানেজারের আসনে বহাল থাকবেন। অবশ্য ওই সময়েই তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে, তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নতুন আপডেট তখনো হাতে আসেনি।
বর্তমান প্রধান কোচের পাশাপাশি বর্তমানের পুরো সহায়ক কোচিং প্যানেলকেও নিজেদের দায়িত্বে বহাল রাখতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এই সফল ম্যানেজারের তত্ত্বাবধানেই আকাশী-সাদারা ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার খেতাব জয় করে, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা নিজেদের করে নেয়, কাতার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরে এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার আসরেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। এমনকি গত ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চেও রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে দলটি।
যদিও প্রধান সহকারী ওয়াল্টার স্যামুয়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা দোলাচল ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে দীর্ঘমেয়াদে এই পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান কোচ। গত আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোর ঠিক আগের মুহূর্তে এই বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই সহকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম এবং এ নিয়ে ন্যূনতম কোনো সংশয় নেই। পেশাগত সম্পর্কের বাইরে তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধুও বটে এবং তিনি সর্বদা এই সহকর্মীর সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন। কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তার থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই বিশ্বমানের সহকারি যদি শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব ছেড়ে বিদায় নেন, তবে সেটি পুরো দলের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য ফেরার পথ সর্বদা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং তিনি যদি সরে দাঁড়াতে চান তবে কোনো বাধা তৈরি হবে না। তবে তাঁর অনুপস্থিতি স্কোয়াডের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে এবং পরবর্তীতে কী পরিস্থিতি দাঁড়ায় তা সময়ই বলে দেবে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের হতাশার পর হোর্হে সাম্পাওলি পদত্যাগ করলে ওই বছরের সেপ্টেম্বরের দিকে স্বল্পমেয়াদী অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়ে আলবিসেলেস্তাদের ডাগআউটে আসেন এই তৎকালীন কম পরিচিত কোচ। পরবর্তীতে তাঁর জাদুকরী ছোঁয়াতেই ঘুরে দাঁড়ায় ঐতিহ্যবাহী দলটি। একের পর এক মর্যাদাপূর্ণ চারটি বড় ট্রফি নিজেদের শোকেসে তুলে দেশের ফুটবলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি।
আসন্ন নতুন চুক্তিপত্রে চূড়ান্ত স্বাক্ষর সম্পন্ন হলে আগামী ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর দেশটির জাতীয় দলের ডাগআউটে এই সফল কৌশলবিদের সফল যাত্রার এক দশক পূর্ণ হবে। যদি চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর নির্দিষ্ট ধারাটি কার্যকর করা সম্ভব হয়, তবে সামনের ২০৩০ সালের বিশ্ব আসরেও এই মাস্টারমাইন্ডকে দলটির প্রধানের দায়িত্বে দেখা যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
Daily Diner Alo