নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
জাতিসংঘ আয়োজিত আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ দল, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন নওগাঁর বদলগাছীর কৃতী সন্তান নাফিউ। এই অর্জনের পেছনে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
প্রতিযোগিতা চলাকালীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। এর ফলেই তরুণ দলটি স্বাধীনভাবে ভাষা মডেল, লেখা বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এবং অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।
কোনো ধরনের বিদেশি বাণিজ্যিক এআই সেবা কিংবা এপিআইয়ের ওপর ন্যূনতম নির্ভরতা ছাড়াই দলটি তাদের প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে। বিচারকদের মূল্যায়নের সময় দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।
বিজয়ী দলের দলনেতা নাফিউ নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে জানান, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি অভিনব ব্যবস্থা দাঁড় করানো, যার ভেতরের প্রতিটি তথ্য সরকারি প্রামাণিক নথি পর্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় অবকাঠামো ব্যবহার করে যে বিশ্বমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা করা যায়, তা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এবং এই বিজয় সমগ্র দেশের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই অভাবনীয় সাফল্যের বার্তা প্রকাশের পর থেকেই বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নাফিউকে অভিনন্দন ও ভালোবাসায় সিক্ত করছেন।
নাফিউর শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন সাফল্যের কথা স্মরণ করে বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মুজাফফর হোসেন উকিল আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত প্রতিভাবান এই শিক্ষার্থী পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে মেধাবৃত্তি লাভ করার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল।
পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জনের মাধ্যমে সে নিজ উপজেলায় আবারও শীর্ষস্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেছিল বলে সাবেক শিক্ষক উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক এই বিশাল অর্জনে একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি দারুণভাবে গর্বিত বোধ করছেন এবং তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
Daily Diner Alo