ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অপ্রয়োজনীয় এআই ব্যবহারে মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকির আশঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
অপ্রয়োজনীয় এআই ব্যবহারে মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকির আশঙ্কা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০২৫ সালের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন ডেটা সেন্টার ৪৪৮ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বা টিডব্লিউএইচ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। বিদ্যুৎ খরচের এই পরিমাণটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের মোট বিদ্যুৎ খরচের থেকেও বেশি। শুধু বর্তমানের পরিসংখ্যানই নয়, সংশ্লিষ্টদের অনুমান অনুযায়ী আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণে গিয়ে ঠেকতে পারে।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ফাহিম নামের এক ব্যক্তি ছদ্মনামে নিজের মোবাইল ফোনে কোনো এক বিনোদনের উদ্দেশ্যে একের পর এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা এআই ছবি তৈরি করছিলেন। তবে তিনি মোটেও ধারণা করতে পারেননি যে তার স্মার্টফোনের ছোট পর্দার ওইপাশে সুদূর কোনো স্থানে বিশাল আকৃতির একটি ভবন তখন এআইয়ের কার্যক্রমের জ্বালানি জোগাতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় ঘটিয়ে চলেছে।

প্রকৃতপক্ষে ডেটা সেন্টার বা তথ্যকেন্দ্র বলতে হাজার হাজার কম্পিউটার মেশিনে পরিপূর্ণ বিশাল সব স্থাপনাকেন্দ্রকে বোঝায়, যেগুলোর ভেতর দিয়ে মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পরিচালিত হয়ে থাকে। এই শক্তিশালী যন্ত্রগুলো সচল থাকার সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ে বিধায় সেগুলোকে ঠান্ডা ও স্বাভাবিক রাখতে বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ কোনো টেক্সট বা লেখা তৈরির তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ছবি কিংবা ভিডিও তৈরি করার কাজটিতে অনেক বেশি পরিমাণে শক্তির প্রয়োজন পড়ে এবং এতে পানির পাশাপাশি বিদ্যুতের খরচও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

এই পুরো পরিস্থিতির প্রধান ঝুঁকি কোথায় নিহিত রয়েছে তা নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি রাতারাতি পৃথিবীর সমস্ত বিদ্যুৎ কিংবা সুপেয় পানি নিঃশেষ করে ফেলবে না। এর উল্টো পিঠে এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক হলো এটি বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রিডগুলোকে আগের চেয়ে আরও বেশি দক্ষ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করতে পারে। তা সত্ত্বেও কোনো রকম দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াই যদি এই প্রযুক্তির অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ ঘটাতেই থাকা হয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

এই বিশাল পরিবেশগত ঝুঁকি এড়াতে ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনেক বেশি সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। অপ্রয়োজনীয় শখের বশে কিংবা কেবল মজার ছলে বারবার ছবি তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কেবল প্রয়োজন পড়লেই কেবল এআইয়ের সাহায্য নিতে হবে। এছাড়া একই প্রশ্ন বারবার দশবার না লিখে একবারই খুব পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্টভাবে ইনপুট দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই ছোট্ট অভ্যাসগুলোকে সামান্য বা তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু বিশ্বের কোটি কোটি ব্যবহারকারীর সম্মিলিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই অভ্যাসগুলোই সামগ্রিকভাবে এক বিশাল পরিবর্তন বা পার্থক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আসলেই আমাদের পরিবেশের কোনো শত্রু? এর উত্তর হলো বিষয়টি তেমন নয়, বরং মূল প্রশ্নটি হওয়া উচিত আমরা ঠিক কতটুকু সম্পদের বিনিময়ে আদতে কী আউটপুট বা প্রাপ্তি অর্জন করছি।

এই পুরো তথ্যবহুল প্রতিবেদনটির মূল রচয়িতা একজন পেশাদার টেক ব্লগার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সের্গেই বন্দারচুক ফিল্ম ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত, সভাপতি বিবে

সের্গেই বন্দারচুক ফিল্ম ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত, সভাপতি বিবে