নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
সৌদি আরবে এক মাসের ছুটি কাটিয়ে গত ৯ অক্টোবর কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন ৩২ বছর বয়সী শাহেদ আহম্মেদ আশিক। সুদূর প্রবাসে পৌঁছানোর পরদিন অর্থাৎ ১০ অক্টোবর তিনি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং নিরাপদে পৌঁছানোর বিষয়টি জানান। অথচ কারও ধারণাই ছিল না যে এই কথোপকথনটিই স্বামী-স্ত্রীর জীবনের শেষ কথা হিসেবে পরিগণিত হবে। বিমানবন্দর এলাকায় হুতি বিদ্রোহীদের চালানো আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাণ হারান শাহেদ, যার নাম পরবর্তীতে নিহতের তালিকায় যুক্ত হয়।
রিয়াদে অবতরণের মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে শাহেদের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি এসে পৌঁছায় তার নিজ বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে। প্রিয় মানুষটির মরদেহবাহী কফিন গ্রামে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকায় এক চরম হৃদয়বিদারক ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বাবার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অ্যাম্বুলেন্সের কাছে এসে শাহেদের দুটি অবুঝ শিশুসন্তান—১১ বছরের কাউছার ও ৬ বছরের আব্দুল্লাহ তাদের বাবার নিথর কফিনটি জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। উপস্থিত জনতা এই শোক সহ্য করতে না পেরে চোখের জলে বুক ভাসান।
Daily Diner Alo