নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি জয়ের মধ্য দিয়ে দেশের সামনে সুনীল অর্থনীতির যে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বিশেষায়িত ও পারদর্শী কর্মীবাহিনীর অভাব। এই ঘাটতি মোকাবিলা করতে শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি মেরিন ক্যাডেটদের বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এখান থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে বের হওয়া তরুণেরা কেবল দেশীয় বাণিজ্যিক জাহাজ ও মাছ ধরার নৌযানেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের নৌবহরেও সুনামের সঙ্গে নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিচ্ছেন।
মাছ ধরা, আধুনিক প্রযুক্তির ট্রলার চালানো, সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষা এবং সর্বাধুনিক নৌচালনা বিদ্যায় ক্যাডেটদের পোক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটির ভেতর সংযোজন করা হয়েছে সর্বাধুনিক পরীক্ষাগার, সিমুলেটর এবং হাতে-কলমে শেখার নানা সুযোগ। সরকার পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই পন্থায় সমুদ্রের অফুরন্ত সম্পদ আহরণের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গ্র্যাজুয়েটরাই তার মূল শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছেন।
এই প্রতিষ্ঠানের চলমান উন্নতি কেবল দেশের সামুদ্রিক ব্যবসা ও মৎস্য খাতকেই শক্তিশালী করছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে সুনীল অর্থনীতির অবদানকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়া করিয়ে দিচ্ছে। সমুদ্র বিজয়ের পর এখন আসল বিজয়ীদের প্রস্তুত করার মাধ্যমে একটি স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি এক অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
আমাদের দেশের জলসম্পদের সঠিক ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা, সমুদ্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা এবং পারদর্শী কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার তাগিদ অনুভব করে ১৯৭৩ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর এই মৎস্য একাডেমিটির গোড়াপত্তন করা হয়েছিল।
তথ্য অনুযায়ী, জলযানগুলোর পরিচালনা ও দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তৎকালীন সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের হাতে অর্পণ করা হয়েছিল। সাগরের মাছ শিকার, তা সংরক্ষণ, গুণগত মান ঠিক রাখা এবং এই খাতের জন্য যোগ্য কর্মী তৈরির লক্ষ্য নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্ববধায়নে করপোরেশনের একটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প হিসেবে এর অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালের পহেলা জুলাই থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বাজেটের অন্তর্ভুক্ত একটি সরকারি দপ্তর হিসেবে রূপান্তরিত হয়। নির্ধারিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী একজন অধ্যক্ষ এর শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সব নিয়মকানুন মেনে প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এর মাধ্যমেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সমুদ্রসম্পদ খাতের জন্য দক্ষ লোকবল সৃষ্টি ও ব্লু-ইকোনমির অগ্রযাত্রায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
Daily Diner Alo