নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
অর্থনৈতিক মন্দা ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের প্রভাব সরাসরি পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিবাহ বাজারগুলোর ওপর। সাধারণ ব্যয়বহুল ও ধুমধামের আয়োজন থেকে সরে এসে এই অঞ্চলের তরুণ দম্পতিরা এখন নানা কৃচ্ছ্রসাধন ও বিকল্প উপায়ের আশ্রয় নিচ্ছেন।
এরই অংশ হিসেবে ফিলিপাইনের একটি দম্পতি তাদের বিয়ের খরচ মেটাতে বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনদের প্রত্যক্ষ সাহায্য নিচ্ছেন। সেখানে পরিচিতজনদের মধ্যে কেউ কেউ বিয়ের ভোজসভার আর্থিক দায়িত্ব কাঁধে নিচ্ছেন, আবার কেউ ছবি তোলার পেশাদার খরচে বিশেষ ছাড় দিচ্ছেন।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের বহু হবু দম্পতি বিয়ের জন্য পঞ্জিকা অনুযায়ী তথাকথিত কোনো শুভ বা বিশেষ দিনটিকে বেছে নেওয়ার ঐতিহ্য থেকে সরে আসছেন। এর বদলে তারা বাজেট নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে নিজেদের জন্য আর্থিক ও মানসিকভাবে সুবিধাজনক যেকোনো সাধারণ তারিখেই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করছেন।
এদিকে এই অর্থনৈতিক সংকটের ধাক্কা লেগেছে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক খাতগুলোতেও। মন্দার কারণে বহু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সনাতন বিয়ের আয়োজন পরিচালনার কাজ কমিয়ে দিয়ে তুলনামূলক লাভজনক ও নিরাপদ করপোরেট অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
তবে এই সামগ্রিক মন্দার মধ্যেও পর্যটনকেন্দ্রিক ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বা অবকাশকালীন বিয়ের বাজারে কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনা টিকে রয়েছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম যৌথভাবে বা এককভাবে বিদেশ থেকে আসা বর-কনে ও অতিথিদের নিজেদের দেশে বিয়ের আয়োজন করতে আকৃষ্ট করার জন্য নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ভিএনএ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির উপকূলীয় কুয়াংনিন প্রদেশে চলতি বছরের প্রথম চার মাসের ভেতর ভারতের অত্যন্ত বিত্তশালী পরিবারের মোট ছয়টি রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
এই ধনাঢ্য ভারতীয় পরিবারগুলোর আয়োজিত প্রতিটি বিয়ের অনুষ্ঠান টানা বেশ কয়েক দিন ধরে উদযাপিত হয়েছে। আর ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত এসব জমকালো একেকটি বিয়ের আয়োজনের বাজেট ছিল কয়েক মিলিয়ন ডলারের সমান।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
Daily Diner Alo