নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
পদ্মা নদী থেকে সব ধরনের অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করার পাশাপাশি এর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধ এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পদ্মা সেতু ও এর সংলগ্ন বিভিন্ন অবকাঠামোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রার্থনা জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
আবেদনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত একটি প্রাথমিক কারিগরি পরিদর্শন চালানোর আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতু বা এর সঙ্গে জড়িত কোনো অবকাঠামো বর্তমানে কোনো ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া মাত্রই জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে এই রিটে।
মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) পক্ষ থেকে এই রিট মামলাটি করা হয়েছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া নিজে আবেদনকারী হিসেবে উপস্থিত হয়ে গত রোববার এই রিটটি দায়ের করেন।
সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে আইনজীবী গোলাম রহমান ভূঁইয়া আরও জানান যে, বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চের চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিনে এই রিট আবেদনটির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিটের বিবরণে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, পদ্মা নদী থেকে যেভাবে নিয়মবহির্ভূত ও অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তাতে নদীটির প্রাকৃতিক গঠন মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতীরের স্থিতিশীলতা, সামগ্রিক পরিবেশ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর গভীর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
পদ্মা নদীর আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অননুমোদিত উপায়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। যদি এই কার্যক্রম প্রচলিত কোনো আইনগত শর্তের পরিপন্থী হয়, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়েছে।
আইন অমান্য করে যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তি কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার্থে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
আইনজীবী গোলাম রহমান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে আরও বলেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, কৃষি খাত, মৎস্যসম্পদ এবং সাধারণ মানুষের জনজীবনের সঙ্গে অত্যন্ত গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে পদ্মা নদী।
তিনি সতর্ক করে জানান, এই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে এবং এর পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হলে নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকিতে পড়বে। এছাড়া কৃষিজমি ও অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
Daily Diner Alo