ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পরিবেশ ও হিসাব নিরীক্ষার পর রাকসু নির্বাচন: উপাচার্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
পরিবেশ ও হিসাব নিরীক্ষার পর রাকসু নির্বাচন: উপাচার্য ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

গত নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ কেন্দ্রীয় সংসদের মোট তেইশটি পদের মধ্যে বিশটিতে বিজয় অর্জন করেছিল। নির্বাচনী প্রচারের সময় এই জোটের দেওয়া চব্বিশ দফা ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ বা রাকসু নির্বাচন নিয়মিত করার ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ প্রতিবার নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর নিয়মিতভাবে যাতে ভোটাভুটি আয়োজন করা যায়, সেই সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল। অথচ, সেই নির্বাচনের প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রাকসুর সহসভাপতি বা ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিগত প্রশাসনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে যতটুকু আগ্রহ বা তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল, বর্তমান প্রশাসনের মধ্যে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো বিশেষ মহলের গ্রিন সিগন্যাল বা সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে, যা অত্যন্ত স্পষ্ট। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ ধরনের কোনো সংকেত পাওয়ার জন্য বসে থাকাটা অত্যন্ত হতাশাজনক একটি বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। মোস্তাকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন যে, রাকসু পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট দায়সারা গোছের মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে রাকসু নির্বাচন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান জানিয়েছেন যে, পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তাদের তরফ থেকে এ মুহূর্তে কোনো ধরনের প্রস্তুতি বা আয়োজন নেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো বার্তা এসে পৌঁছায়নি। সংগঠনের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, নতুন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই। অধ্যাপক সেতাউর রহমানের মতে, নির্বাচন আয়োজনের প্রকৃত মানসিকতা বা প্রস্তুতি যদি থাকত, তবে এত দিনে নিশ্চয়ই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য যে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা এই মুহূর্তে অনুপস্থিত রয়েছে।

এদিকে সার্বিক এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সম্পূর্ণ আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং পদাধিকারবলে রাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন যে, পরবর্তী রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি মূলত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া, ক্যাম্পাসের সামগ্রিক নির্বাচনের পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা এবং বিগত দিনের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব ও আর্থিক লেনদেন যথাযথভাবে নিরীক্ষা করা। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাউফলে নদী থেকে হাত ও গলায় ইট বাঁধা লাশ উদ্ধার

বাউফলে নদী থেকে হাত ও গলায় ইট বাঁধা লাশ উদ্ধার