ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধি ও শরণার্থী গ্রহণ কমাল ট্রাম্প প্রশাসন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধি ও শরণার্থী গ্রহণ কমাল ট্রাম্প প্রশাসন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শরণার্থী গ্রহণ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীতে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের জন্য এই কর্মসূচি আংশিক চালু করা হয়। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার তাদের দেশে এই জনগোষ্ঠীর ওপর কোনো ধরনের নিপীড়নের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

২০২৬ অর্থবছরের জন্য শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৫০০ জন। পরবর্তীতে এই সীমা বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫০০ করা হলেও, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই সময়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন মোটে ১৬ হাজার ২৯২ জন শরণার্থী। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক, অর্থাৎ ১৬ হাজার ২৮৭ জনই ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক।

এর বিপরীতে, জো বাইডেন প্রশাসনের শেষ দুটি অর্থবছরে যথাক্রমে প্রায় ৬০ হাজার ও এক লাখ শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এদিকে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য বলবৎ থাকা অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা বা টিপিএস বাতিলের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতীয়সহ বিভিন্ন দেশের বহু মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কর্মসংস্থানের আইনি সুরক্ষা হারিয়ে সরাসরি বহিষ্কারের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েন। পাশাপাশি, বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথও আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ও কড়াকড়ি করা হয়েছে।

নিরাপত্তার ঝুঁকিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে বর্তমান প্রশাসন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ অথবা আংশিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিশেষ করে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের বহুল ব্যবহৃত ‘এইচ-১ বি’ ভিসার নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক লাখ ডলার ফি ধার্য করার কথা ঘোষণা করা হয়।

এই অতিরিক্ত ফি আরোপের ঘোষণায় মূলত ভারতীয় কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি খাতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার তথ্যমতে, এর প্রভাবে ২০২৭ সালের জন্য ভিসা নিবন্ধন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

যদিও আদালত শেষ পর্যন্ত এক লাখ ডলারের এই বিতর্কিত ফি আপাতত স্থগিত রেখেছে, তবে এর সম্ভাব্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে এখনো নানা ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। হোয়ার্টন স্কুলের একটি গবেষণায় অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে, এইচ-১বি ভিসানীতির এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া স্থানীয় কর্মীদের মজুরির ওপর বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে, অবস্থাপন্ন ও ধনী বিদেশি নাগরিকদের মার্কিন মুল্লুকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ নামক একটি নতুন কর্মসূচি চালু করা হয়। এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার জন্য সরকারি তহবিলে ১০ লাখ ডলার অনুদান এবং কোনোভাবেই ফেরতযোগ্য নয় এমন ১৫ হাজার ডলার আবেদন ফি জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই আকর্ষণীয় কর্মসূচির মাধ্যমে মাত্র একজন আবেদনকারীকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং বহিষ্কার অভিযান জোরালো করার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের বৈধ অভিবাসনের পথও ব্যাপকভাবে সংকুচিত করেছে। তবে এই কঠোর পদক্ষেপগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নির্মিত দেয়ালের কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইসরায়েলকে হামলা বন্ধে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি, যুদ্ধবিরতি ন

ইসরায়েলকে হামলা বন্ধে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি, যুদ্ধবিরতি ন