নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড কিউলের পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অতীতে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের যে দাবি করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত বিবরণ সামনে এসেছে। যদিও ওই সময়ে কিউল উল্লেখ করেছিলেন যে ঘটনাটি এর চেয়ে বেশিদূর গড়ায়নি।
ছয় ফুট এক ইঞ্চি দীর্ঘ দেহের ওই সাবেক মডেলের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজে থেকেই সাধ্যমতো প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি থামার অনুরোধ জানিয়ে কথা বলতে চাইলে ট্রাম্প শান্ত হয়ে আসেন এবং তাঁর লম্বা শারীরিক গঠনই সম্ভবত তাঁকে বড় ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছিল।
ডেইলি মেইলের তথ্য অনুযায়ী, কিউলের একজন পুরোনো বন্ধু প্রায় দুই দশক আগেই তাঁর কাছে ট্রাম্পের এমন অযাচিত আচরণের কথা শুনেছিলেন। সেই বন্ধুর ভাষ্যমতে, দীর্ঘ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ঘটনার বর্ণনা দিলেও কিউল নিজের বক্তব্যে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনেননি।
চলতি বছর কিউলের এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তৎকালীন সময়ে ট্রাম্পের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট সেগুলোকে সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি हाल हीতে প্রকাশিত খবরের বিপরীতেও হোয়াইট হাউসের বর্তমান প্রতিনিধি একই রকমভাবে সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দাবি, জেফ্রি এপস্টিন-সংক্রান্ত কোনো ঘটনার সঙ্গেই ট্রাম্পকে কোনোভাবেই যুক্ত করা যায় না এবং তিনি এসব অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের তথাকথিত প্রতিবেদন হলো উন্মত্ত ডেমোক্র্যাট দলের একটি মরিয়া অপচেষ্টা মাত্র। ট্রাম্পের নজিরবিহীন অর্জনের ফলে রিপাবলিকানদের যে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেখান থেকে মার্কিন জনসাধারণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘোরানোই এর মূল লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র সাত দিন আগে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এপস্টিন ফাইল প্রকাশ এবং তা ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্কের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেশ ভালোভাবেই রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছেন না। তবুও এপস্টিন নথি নিয়ে প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ সামগ্রিক নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকান শিবিরের জন্য বেশ জটিলতার সৃষ্টি করেছে বলে সংবাদে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির এই সমস্ত অভিযোগ মূলত ডেমোক্র্যাটদের তৈরিকৃত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এগুলোকে কোনোভাবেই আদালতের রায়ে প্রমাণিত সত্য হিসেবে গণ্য করা যায় না এবং হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই এসব অভিযোগ জোরালোভাবে নাকচ করেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
Daily Diner Alo