নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
চীনের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেংনিউ এবং জনপ্রিয় পানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দংপেং ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীর জাতীয় আবেগে আঘাত হানে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে। যদিও এই দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো ভিডিও ক্লিপের কথা সরাসরি উল্লেখ করেনি, তবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে চীনের সরকারি টেলিভিশন সিসিটিভির বিভিন্ন নিউজ অ্যাপ থেকেও এমবাপ্পেসংশ্লিষ্ট সব ধরনের কনটেন্ট ইতোমধ্যে সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৪৯ সালে মাও সে তুং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাঁর শাসনামলেই পরবর্তীতে ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ নামক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল, যার ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে সে সময় কোটি কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সাংস্কৃতিক বিপ্লবের যুগটিতেও দেশজুড়ে ব্যাপক মাত্রায় সহিংসতা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছিল।
যদিও ১৯৭৬ সালে মাও সে তুংয়ের জীবনাবসানের পর থেকে চীন ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতির দিকে নিজেদের দুয়ার আরও উন্মুক্ত করে দিয়েছে, তবুও দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি এখনো তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের প্রধান জাতীয় প্রতীক হিসেবে মূল্যায়ন ও সম্মান করে থাকে।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং চীনে বিপুল জনপ্রিয় খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের মিম বা হাস্যরসাত্মক উপাদান তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক ফুটবল অঙ্গনের নানা মহলে অনেক সময় তাঁকে মজার ছলে বা ব্যঙ্গ করে ‘স্বৈরশাসক’ বলে সম্বোধন করা হয়ে থাকে এবং এ নিয়ে নানা ট্রলও দেখা যায়।
তবে ফরাসি প্রখ্যাত ফুটবল সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-কে দেওয়া নিজের একটি সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে এ বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, মানব ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়ে লাখ লাখ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নিজের তুলনা করার ভেতরে এমন এক ধরনের আপত্তিকর দিক লুকিয়ে থাকে, যা আর কোনোভাবেই মজার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
Daily Diner Alo