ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কালো টাকা রোধ ও কর স্বচ্ছতায় করপোরেট বিনিয়োগ আসবে: আরশাদ আদনান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
কালো টাকা রোধ ও কর স্বচ্ছতায় করপোরেট বিনিয়োগ আসবে: আরশাদ আদনান ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান নানাবিধ সংকট ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে সম্প্রতি একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দেশের বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক ও সংশ্লিষ্টরা সিনেমার নানা দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে পরিচালক মতিন রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বর্তমানে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পে দক্ষ সৃজনশীল পরিচালক এবং নিবেদিতপ্রাণ চিত্রনাট্যকারের তীব্র সংকট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন যে, শুধু বড় বাজেটের সিনেমা তৈরির পেছনে না ছুটে, একযোগে বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক—উভয় ধারার চলচ্চিত্রই নির্মাণ করতে হবে।

নির্মাতা মতিন রহমানের মতে, বড় বাজেটের পাশাপাশি স্বল্প ও মাঝারি বাজেটের ছবিও নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি যোগ করেন যে, সবাই কেবল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির পেছনে সময় দিলেও, তাঁর দৃষ্টিতে পুরো চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রকে ঘিরেই কাজ করা উচিত।

অন্যদিকে, বিশিষ্ট নির্মাতা কাজী হায়াৎ গণমাধ্যমের শক্তি ও গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে অতীতের একটি দারুণ ঘটনার উদাহরণ দেন।

তিনি জানান যে, কালজয়ী সিনেমা ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহে দর্শকরা একেবারেই দেখেনি বা হলে চলেনি।

পরবর্তীতে একজন সাংবাদিক সিনেমাটি উপভোগ করার পর ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় চার থেকে পাঁচ পাতা জুড়ে একটি বিশদ রিভিউ প্রকাশ করেন।

সেই চমৎকার রিভিউটি পড়ার পর সাধারণ দর্শকদের মাঝে অভূতপূর্ব সাড়া জাগে এবং সিনেমাটি পুনরায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয়।

তাই কাজী হায়াতের জোরালো বক্তব্য হলো, একটি মানসম্মত চলচ্চিত্রের সঠিক প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা সবসময়ই অপরিসীম।

প্রযোজক আরশাদ আদনান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সৃজনশীলতার চরম অভাবেই তারা নতুন কোনো নির্মাতা বা কলাকুশলী তৈরি করতে পারছেন না।

তিনি জানান, অনেক সিনিয়র শিল্পী এখন আর নতুন কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন না।

এর কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, যেসব সিনেমা মূলত কালো টাকা সাদা করার অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়, সেখানে তারা আর কাজ করতে চান না।

তার মতে, সঠিক বিনিয়োগ এবং করের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এই কালো টাকার অন্ধকার সংস্কৃতি আপনাআপনি দূর হয়ে যাবে।

তখন দেশের বড় বড় করপোরেট হাউজগুলোও সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে আসতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী হবে।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে আমাদের যেসব সরকারি নীতিমালা রয়েছে, সেগুলোতে নানা ধরনের দুর্বলতা ও ত্রুটি বিদ্যমান।

একটি ভালোমানের চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের স্বার্থে দেশের সকল হলমালিকদেরও সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সবশেষে প্রযোজক আরশাদ আদনান জোর দিয়ে বলেন যে, প্রযোজক এবং প্রেক্ষাগৃহের মালিকপক্ষ—উভয়কেই চলচ্চিত্রের স্বার্থে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শাহজাদপুরে দুর্গাপূজার বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করলেন পুলিশ স

শাহজাদপুরে দুর্গাপূজার বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করলেন পুলিশ স