ঢাকা | বঙ্গাব্দ

স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াল অজিরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াল অজিরা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

শেষ ভালো যার সব ভালো তার—কেপটাউন টেস্টের প্রথম দিনে এই প্রবাদেরই দেখা মিলেছে। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে হাসি ফুটেছে অস্ট্রেলিয়ার মুখে।

মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ইনিংসে ৩২৯ রানে অলআউট করতে সক্ষম হয়েছে অজিরা। মাত্র ছয়টি বলের ব্যবধানে স্বাগতিকদের শেষ চার উইকেট দখল করে প্রোটিয়া শিবিরে মারাত্মক ধস নামান স্টার্ক।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান দলপতি প্যাট কামিন্স। পিচ ব্যাটিংয়ের অনুকূলে থাকায় দুর্দান্ত সূচনা পায় স্বাগতিক দল।

ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা মার্কেস অ্যাকারম্যান ও এইডেন মার্করাম মিলে ওপেনিং জুটিতে দারুণ এক শক্ত ভিত্তি গড়েন। লাঞ্চের বিরতিতে যাওয়ার আগে প্রোটিয়ারা কোনো উইকেট না হারিয়েই বোর্ডে জমা করে ১৪০ রান।

ওই সময়ে মাত্র ৭৫ বল মোকাবেলা করেই ৮২ রান করে ফেলেছিলেন ওপেনার অ্যাকারম্যান। তবে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষ হতেই ম্যাচের চিত্র পাল্টাতে শুরু করে।

দলীয় ১৫৮ রানের মাথায় একটু বেশি আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে অফ-স্পিনার নাথান লায়নের বলে স্টাম্পড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অ্যাকারম্যান।

সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে ৯৪ বলে ১২টি চার এবং দুটি ছক্কার সাহায্যে ৯৫ রান করে অ্যাকারম্যান আউট হলে ভেঙে যায় এই উদ্বোধনী জুটি। আর এই পতনেই মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ব্যাটিং অর্ডারে বিপর্যয় নেমে আসে।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা মাত্র ৭৪ রান যোগ করতেই একে একে হারিয়ে বসে ৬টি উইকেট।

জশ হ্যাজলউডের করা বলে শর্ট ফাইন লেগ অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে মার্করামের ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৭৮ রান।

এর কিছু সময় পর অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার নাথান লায়ন অসাধারণ এক ডেলিভারিতে কোনো রান করার সুযোগ না দিয়েই বোল্ড করে দেন স্বাগতিক অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে।

দলীয় স্কোরে বড় কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই পেসার মিচেল স্টার্ক তার আগ্রাসী বোলিংয়ের ঝলক দেখাতে শুরু করেন। তিনি পরপর দুই ওভারে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন ফিফটি করা ডেভিড বেডিংহাম ও শূন্য রান করা উইয়ান মুল্ডারকে। বেডিংহাম এই ইনিংসে ঠিক ৫০ রান করেন।

এরপর সপ্তম উইকেটের জুটিতে দলের রান ৯৫ বাড়িয়ে নিয়ে বিপর্যয় কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন রায়ান রিকেলটন ও মার্কো ইয়ানসেন।

কিন্তু যখনই দিনের খেলার সমাপ্তি ঘটার সময় হলো এবং নতুন বল হাতে পেলেন, তখনই ভয়ংকর রূপ ধারণ করলেন অজি পেসার স্টার্ক।

নতুন বল পাওয়ার পর চতুর্থ ডেলিভারিতেই রিকেলটনকে ৪২ ব্যক্তিগত রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি।

এর ঠিক দুই বল পর ক্রিজে থাকা আরেক সেট ব্যাটার ইয়ানসেনকেও বোল্ড করে দেন স্টার্ক, যিনি ব্যক্তিগতভাবে ৫২ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

নিজের ঠিক পরের ওভারের প্রথম ডেলিভারিতেই জেরাল্ড কোয়েটজিকে আউট করেন এই বাঁহাতি পেসার।

এরপর ওভারের তৃতীয় বলে কাগিসো রাবাদাকেও এলবিডব্লিউর শিকার বানিয়ে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের সমাপ্তি নিশ্চিত করেন স্টার্ক।

পুরো ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে মাত্র ৭২ রান খরচায় একাই ৬টি উইকেট শিকার করেন অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা পেসার।

উল্লেখ্য, এর আগে গেবেখায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৩১ রানের ব্যবধানে বড় ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া।

ওই হারের পর এই গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচের একাদশে মোট চারটি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

গলায় বা ঘাড়ে আঘাতজনিত চোটের কারণে এই টেস্টের পুরো স্কোয়াড থেকেই ছিটকে পড়েছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথ।

এছাড়া পারফরম্যান্স ও অন্যান্য কারণে দল থেকে বাদ পড়েন নিক ম্যাডিনসন, বো ওয়েবস্টার এবং পেসার স্কট বোল্যান্ড।

তাদের চারজনের পরিবর্তে এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলে সুযোগ পান ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস, অলরাউন্ডার কুপার কনোলি এবং অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলেন ফিনল্যান্ডের

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলেন ফিনল্যান্ডের