নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা
ভোরবেলা ঘুম ভাঙার আগেই আপনার ই–মেইল স্ক্যান করে ড্রাফট তৈরি করা, মিটিংয়ের সূচি ঠিক করা কিংবা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের ট্রেন বা বাসের টিকিট কেটে ফেলা—এমন কাল্পনিক মনে হওয়া কাজগুলোই বাস্তবে রূপ দিচ্ছে এআই এজেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশেষ সহকারী।
প্রথাগত চ্যাটবট কেবল নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দিতে পারলেও, এই নতুন প্রযুক্তির এজেন্টগুলো আপনার প্রদেয় নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে নিজেই ওয়েবসাইটের কার্যক্রমে অংশ নেয়, নির্ধারিত ফরম পূরণ করে এবং ই–মেইল আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন জটিল ধাপ সম্পন্ন করতে সক্ষম।
সহজ কথায়, সাধারণ চ্যাটবটকে যদি কেবল একজন পরামর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে এআই এজেন্ট হলো এমন এক কর্মী যে নিজে কায়িক বা ডিজিটাল শ্রম দিয়ে সম্পূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করে দেয়।
তবে যে ডিজিটাল সহকারী আপনার পক্ষ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে, সে কোনো না কোনো মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলতে পারে, যা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়।
এমনকি অসাবধানতাবশত ভুল কোনো প্রাপকের কাছে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হওয়া বা গোপনীয় ই–মেইল বেঠিক ঠিকানায় চলে যাওয়ার মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও থেকে যায়।
পাশাপাশি বিভিন্ন সাইবার অপরাধী বা প্রতারক চক্র নানা কৌশল অবলম্বন করে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই এজেন্টকে ব্যবহার করে বেআইনি বা ক্ষতিকর কাজ করিয়ে নিতে পারে।
একটি এআই এজেন্টকে যতো বেশি ডিজিটাল বা কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে, তার ক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, ঠিক তেমনি আনুপাতিক হারে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার ঝুঁকিও বহুগুণে বেড়ে যাবে।
এই কারণে কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারীকে কোনো কাজের অধিকার দেওয়ার পূর্বে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত এবং নির্ধারণ করা দরকার কোন কাজ সে স্বাধীনভাবে করবে আর কোনটিতে আপনার অনুমতি লাগবে।
বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সময় সব সময় ব্যবহারকারীকেই নিজ দায়িত্বে চূড়ান্ত সম্মতি বা হ্যাঁ বলতে হবে।
খাতসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদেরা মত প্রকাশ করেছেন যে, বড় কোনো ঝুঁকিতে না গিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট কাজ দিয়ে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করাই সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।
আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই ধরনের স্মার্ট সহকারী আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের আরও বেশি পরিচিত ও অপরিহার্য সঙ্গী হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকা করে নেবে।
ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির ফলে আমাদের কাজের সুবিধা যেমন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, ঠিক তেমনি এর সঠিক ব্যবহারের জন্য নিরাপত্তার দায়দায়িত্বও সমান্তরালে বেড়ে যাবে।
পরিশেষে বলা যায়, এআই এজেন্ট যেমন কোনো জাদুকরি সমাধান নয়, তেমনি এটি কোনো বড় বিপদের কারণও নয়, তবে এর নিয়ন্ত্রণ বা লাগাম সবসময় মানুষের হাতেই থাকতে হবে।
Daily Diner Alo