ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রকাশ্যে এল তুরস্ক পাকিস্তান ও সৌদি আরবের যৌথ মক্কা চুক্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
প্রকাশ্যে এল তুরস্ক পাকিস্তান ও সৌদি আরবের যৌথ মক্কা চুক্তি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত ষোলো অনুচ্ছেদের মক্কা চুক্তির ভেতরের বিস্তারিত তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে। এই চুক্তির আওতায় সামরিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও জ্বালানি সরবরাহ এবং যৌথ প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরির কথাও উল্লেখ রয়েছে এই নথিতে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এর সুনির্দিষ্ট কোনো মেয়াদকাল বা সমাপ্তির নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। কার্যকর হওয়ার পর ন্যূনতম এক দশক অতিক্রান্ত না হলে এর মধ্য থেকে কোনো দেশের পক্ষে নাম প্রত্যাহার করার সুযোগ নেই। তবে কেউ সরে দাঁড়াতে চাইলে চুক্তিভুক্ত অন্য দেশগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে কমপক্ষে তিন মাস পূর্বে লিখিতভাবে নিজ সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবহিত করতে হবে।

চুক্তির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, জাতিসংঘের চার্টারের মূলনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ আইনকে সম্মান জানিয়ে এই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সমন্বয় ব্যবস্থাকে একটি শক্তিশালী যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির রূপ দেওয়া এবং দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর কর্মদক্ষতা ও প্রস্তুতি উন্নত করা।

যৌথ স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তিন দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে এতে। এর ফলে অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধুত্বের বন্ধন আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতিগুলো বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো পক্ষের স্বাধীনতা বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালিত হলে দ্রুততার সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর মধ্যকার চলমান যৌথ কার্যক্রম আরও বেগবান করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে চুক্তিতে।

বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে অভিন্ন অবস্থান বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে নথিতে।

চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী দেশগুলো একে অপরের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা বিপন্ন হলে সেই হুমকি মোকাবিলায় সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তিন দেশ যৌথভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
হজরত উসমান রা.-এর ব্যবসায়িক নীতি ও দানশীলতা

হজরত উসমান রা.-এর ব্যবসায়িক নীতি ও দানশীলতা