ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জাপানের জরুরি সহায়তা ঋণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
জাপানের জরুরি সহায়তা ঋণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক দিনের আলো পত্রিকা

বাংলাদেশি অর্থনীতিতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই প্রবাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা প্রকাশ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে। আগামী পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জাপানি বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সর্বোচ্চ এক ট্রিলিয়ন ইয়েন সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার যে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে, তাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে যে, এই বিশাল অংকের বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন খাত, কৃষি খাত, তথ্যপ্রযুক্তি বা আইসিটি সেক্টর এবং ওষুধশিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে বড় ধরনের অবদান রাখবে।

দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বিনিয়োগের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার উদ্দেশ্যে মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক বা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকার প্রথম সমঝোতা স্মারকটি মূলত দুই দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে স্বাক্ষরিত এই স্মারকের মূল উদ্দেশ্য হলো কর আদায় ব্যবস্থা, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া, লভ্যাংশ ও উপার্জিত অর্থ নিজ দেশে বা বিদেশে পাঠানো এবং বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স প্রাপ্তি সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি জটিলতাগুলোকে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা।

যৌথ ঘোষণাপত্রের বিবরণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উল্লিখিত সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং সঠিক নিয়মকানুন যথাযথভাবে বজায় রাখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, এই ধারার বাকি দুটি সমঝোতা স্মারক বিশেষভাবে কৃষি খাত এবং মৎস্য খাতের পারস্পরিক সহযোগিতাবিষয়ক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, মৎস্য সম্পদ এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন খাতে সর্বাধুনিক জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহার করা এবং দেশটির উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই হলো এই সমস্ত বহুমুখী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

অপরদিকে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের গতিশীলতা আরও বেশি জোরদার করার জন্য অতি শীঘ্রই জাপানের পক্ষ থেকে অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক যোগাযোগ অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করা এবং ঢাকা মেট্রোরেলের বা এমআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা সফলভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা টেকসই রাখতে জাপানের সুপরিচিত ‘POWERR Asia’ নামক কর্মসূচির আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন পরিমাণ জরুরি সহায়তা ঋণ প্রদান নিশ্চিত করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জটিলতার মধ্যেও পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার জন্য প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করার চুক্তিগুলো যথাযথভাবে কার্যকর করার বিষয়টিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে বাংলাদেশ এবং জাপান। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সামুদ্রিক উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে দুটি আলাদা কর্মসূচির মাধ্যমে জলযান বা নৌযান সহায়তা প্রদানের বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা বা ওডিএ কর্মসূচির সুবাদে বাংলাদেশকে একটি বড় পেট্রোল ভেসেল এবং অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স বা ওএসএ কর্মসূচির আওতায় মোট পাঁচটি অত্যাধুনিক পেট্রোল বোট হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

একটি সম্পূর্ণ মুক্ত, অবাধ ও ন্যায্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রাখার সুমহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বা ইপিএ যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করা যায়, সেই বিষয়ে নিজেদের জোরালো প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। যৌথ বিবৃতিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই যুগান্তকারী চুক্তিটি স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসির মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের একটি সুষম, মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ অর্জনের প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ আঞ্চলিক বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে পরিচিত আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বা আরসিইপি চুক্তিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ পাওয়ার অনুরোধের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেছে জাপান।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Daily Diner Alo

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভূমি খাতে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া

ভূমি খাতে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া